ঢাকা: রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ চারজনের জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। একই মামলায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজেও আসামি।
বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ বাদীপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে তারা হলেন- সামির কাদের চৌধুরী, শাকির কাদের চৌধুরী, মেরিনা ইরশাদ এবং আশিকুর রহমান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল জানান, এদিন মামলার ধার্য তারিখে ১৫ আসামির মধ্যে ৯ জন আদালতে হাজির হন। সংসদ অধিবেশন চলায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার নিরাপত্তারক্ষী রাকিব চৌধুরী উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে বাকি চার আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাদের জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম গুলশানের একটি ভবন দখলের অভিযোগে মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি করেন মাইনুল ইসলাম দম্পতি এবং ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে তারা ভবনটি বুঝে পান। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে মাইনুল ইসলামের মৃত্যুর পর থেকে আসামিরা জাল দলিল তৈরি করে ভবনের দ্বিতীয় তলার পুরো অংশ দখলের চেষ্টা করতে থাকে।
এছাড়া, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর আসামিদের তৎপরতা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গত ১৪ জুলাই তারা জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে তালা ভেঙে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা চালায় এবং ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২৮ আগস্ট আবারও হামলা চালিয়ে বাসার লোকজনকে মারধর করা হয়। এ সময় নগদ ১০ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ফ্ল্যাট দখলের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। হামলার সময় ভবনের গ্যারেজে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আহতদের পরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।