ঢাকা: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, রাজধানীর ফুটপাত হকার মুক্ত করতে নৈশ্যকালীন মার্কেটের চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। এতে দিনের বেলা মানুষের চলাচলে অসুবিধা হবে না। আর সিটি করপোরেশনের কোষগারেও টাকা জমা হবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ডিএসসিসির মার্চ মাসের কার্যক্রম সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাতের হকারদের সিটি করপোরেশনের আওতায় আনতে হবে। তারা দোকান করে ময়লার স্তূপ জমা করে রেখে যায়। এতে আমাদের টাকা খরচ করে সে সব পরিষ্কার করতে হয়। এই হকারদের আমার সিটি করপোরেশনের আওতায় আনতে পারলে তাদের টাকা দিয়েই ওই ময়লা পরিষ্কার করা যাবে।
প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা খরচ করেও জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাচ্ছে না কেন? প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বর্তমানে আমাদের ৩টা আউটলেট আছে। এটা যখন ৫টা করতে পারবো অর্থাৎ আরও ২টা বাড়াতে পারবো তখন আর শহরে কোনো জলাবদ্ধতা হবে না। আমরা এই কাজ করার জন্য ইতোমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল নগর গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, কর্পোরেশনের আওতাধীন ২০টি পার্ক ও উদ্যান, ১৩টি খেলার মাঠ, ২০টি চত্বরসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা-মসজিদপাড়া, শ্যামপুর, জুরাইন, ধানমন্ডি লেক, কবিরহাট, শ্যামবাজার ও খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নার্সারি স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জিরো পয়েন্ট হতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সড়ক মিডিয়ান ও ফুটপাতে ফুলগাছ ও টব স্থাপনের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মাননীয় মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এঁর উপস্থিতিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রমে ব্যবহৃত কীটনাশক Malathion এবং Temephos এর নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং রাসায়নিক উপাদান পরীক্ষা ও Efficacy Test করা হয়। মাঠ পর্যায়ে ব্যবহৃত কীটনাশক (লার্ভিসাইড ও এ্যাডাল্টিসাইড) আইইডিসিআর এবং পিপিডব্লিউ এর ল্যাবে পরীক্ষা পূর্বক গুনগত মান সঠিক পাওয়া যায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মশক প্রজননের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকাসমূহ (অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড) চিহ্নিতকরণ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, মাসব্যাপী ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা ও নিবিড়ভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার ফলে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহ ঝুঁকিমুক্ত ওয়ার্ডে রুপান্তরিত হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ডিস মশা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে কাগজ পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বিস্তার প্রতিরোধে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সভা পরিচালনা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে আগামী ৭ এপ্রিল থেকে মশক সুপারভাইজার ও মশককর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আর মশক নিধনে ব্যবহৃত প্রচলিত কীটনাশকের পাশাপাশি মশক নতুন কীটনাশক (বিটিআই) পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত নেওয়া হবে।
যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসন এবং যানজটমুক্ত সড়ক নিশ্চিত করতে ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।যানজট নিরসনে সায়েদাবাদ ব্রিজের ঢাল থেকে টিটি পাড়া পর্যন্ত সড়ক পার্শ্বস্থ সকল অবৈধ টিকেট কাউন্টার অপসারণ করা হবে। এছাড়া টার্মিনালের অভ্যন্তরে থাকা সকল অবৈধ দোকান উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান চালানো হবে।