Friday 03 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুরে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫০ ছাড়িয়েছে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:০৩

রংপুর: রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতায় শতাধিক শিশু হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ৮ জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং এরই মধ্যে দেড়শ ছাড়িয়ে গেছে। নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে বিশেষ শিশু টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় শিশু ওয়ার্ডের পাশে একটি ছোট কক্ষে মাত্র ৬টি বেডের আইসোলেশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে জায়গার সংকটে অনেক শিশুকে গাদাগাদি করে রাখতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো কোনো শিশুকে মেঝেতে এবং কয়েকজনকে বাইরে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক শিশু ভর্তি। বেড সংকটের কারণে একটি বেডে ২-৩ জন শিশুকে রাখা হচ্ছে।

নীলফামারীর জলঢাকা থেকে আসা আজমেরী বেগম জানান, ‘এক বেডে দুই শিশুকে রাখা হয়েছে। জায়গা না থাকায় আমরা মায়েরা দাঁড়িয়ে বা মেঝেতে বসে থাকছি।’

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে আসা মাসুমা বেগমসহ অনেক অভিভাবক একই অভিযোগ করেন এবং নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনের দাবি জানান।

চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে শরীরে র‍্যাশ (লালচে ফুসকুড়ি) না বের হওয়া পর্যন্ত হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা কঠিন। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে উচ্চ জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্টসহ হামের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. খালিদ হোসেন বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে নিয়মিত হাম টিকাদান না হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ৫ মাস থেকে ১ বছর বয়সী।’

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজ জানান, এ পর্যন্ত ১৫ জন শিশুর রক্ত পরীক্ষা করে ৭ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।’

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর