ঢাকা: সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার জন্য ব্যবসায়ীরা যে দাবি জানিয়েছেন, তা মেনে নেয়নি সরকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য দেশের সব দোকান ও শপিংমল সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। আপাতত তিন মাসের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিদ্যুৎ ভবনে দোকান মালিকদের সঙ্গে সরকারের বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
তবে গতকাল রাজধানীর সব এলাকায় সন্ধ্যা ৬টায় দোকান-শপিংমল বন্ধ হয়নি। কোথাও ৭টা, কোথাও ৮টায় বন্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকান-শপিংমল খোলা রাখা যাবে। এরপর ব্যবসায়ীরা রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
গতকাল বিদ্যুৎ ভবনে বৈঠকে সারাদেশের দোকান মালিকদের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, সভায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পাঁচটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রধান দাবি ছিল সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া।
এ ছাড়া সব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও যানজট নিরসন করে জ্বালানি অপচয় রোধ করার প্রস্তাব জানান দোকান মালিকরা। তারা বলেন, সরকারি-বেসরকারি গাড়ি ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে জোড় সংখ্যার এক দিন, অন্যদিন বেজোড় সংখ্যার গাড়ি রাস্তায় চলাচল করলে জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং যানজট কমবে। মোটরবাইককেও এর আওতায় আনা যায়। এ ছাড়া ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহনের আওতা বাড়িয়ে দিতে হবে; যা বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দিয়েছেন, তিন মাসের জন্য দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী। সভায় তিনি বলেছেন, উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে গ্রীষ্মকাল ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আপাতত তিন মাসের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোরবানির ঈদের আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে এই সময় সমন্বয় করা যেতে পারে। ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তারা সরকারের কাছে কিছু সুপারিশ ও দাবি পেশ করেন। মন্ত্রী সাময়িক সময়ের জন্য তাদের সরকারকে সহযোগিতার অনুরোধ করেন এবং তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার কথা বলেন।