ঢাকা: কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মিছবাহ উদ্দীন আহমদের সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের অনাকাঙ্খিত অকাল মৃত্যুর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এই ঘটনায় বর্ণিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ, শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এই অবস্থায়, অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।
অতিরিক্ত মহাপরিচালককে (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিনকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জোবায়দা সুলতানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক (শৃঙ্খলা) ডা. মুহাম্মদ আবদুল কাদের। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির কার্যপরিধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে- অর্পিতা নওশিনের অকাল মৃত্যুর প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনার ওপর। এছাড়া শিক্ষার্থীর প্রতি কোনো ধরনের মানসিক চাপ, হয়রানি বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে কি না এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিটিকে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, পরীক্ষার ফলাফল ও উপস্থিতি রেকর্ড সংগ্রহ করে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা মূল্যায়ন করবে এই কমিটি।
এর আগে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হোস্টেলের নিজ কক্ষে আত্মহত্যা করেন অর্পিতা। তার বন্ধুরা জানিয়েছেন, একই বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ না হওয়ায় নওশিন মানসিক যন্ত্রণা ভুলতে ১০৯ পিস এভেন্ডার ৪০ মিলিগ্রাম ওষুধ সেবন করেছিলেন।
জানা গেছে, প্রথম বর্ষেই কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা শারমিনের রোষানলে পড়েন নওশিন। এরপর প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমি বিষয়ে অকৃতকার্য হতে হয় তাকে। এরপর গত তিন বছরে আরও ৪ বার এনাটমির পরীক্ষা দিয়েছেন নওশিন। কিন্তু প্রত্যেকবারই পরীক্ষায় ফেইল এসেছে। যদিও কী কারণে এই রোষানলে পড়তে হয়েছে তার সুস্পষ্ট কারণ জানেন না কেউ।
অর্পিতার গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই-এক বোনের মধ্যে অর্পিতা ছোট। খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি দিয়েছিলেন নওশিন।