Sunday 05 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিন্ডিকেট করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ২৪ হাজার কোটি টাকা লুটের অভিযোগ

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০২ | আপডেট: ৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০৬

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: সিন্ডিকেটের জিম্মিদশা থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে মুক্ত করে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য বাজারটি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)-এর সিন্ডিকেটবিরোধী সদস্যরা।

রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বায়রার ইসি কমিটির সাবেক সদস্য মোস্তফা মাহমুদ বলেন, সরকার সিন্ডিকেট না ভাঙলে আমরা আমরণ অনশনে যাব। বারবার এই বাজারকে সিন্ডিকেটের কবলে পড়তে দেব না। আমরা সবার জন্য ব্যবসার সুযোগ চাই। নির্দিষ্ট ১০০ জন কেন ব্যবসা করবে? সিন্ডিকেটের এই ১০০ জন চায় শুধু তারাই ব্যবসা করুক। এই সিন্ডিকেট ২৪ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। আমাদের দাবি, তাদের দেশে এনে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হোক।

বিজ্ঞাপন

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি পুনরায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে একটি সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিন্ডিকেটের প্রধান হোতা দাতো শ্রী মোহাম্মদ আমিন নুর ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপন বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। নানা নামের টুলগুলো ব্যবহার করে তারা সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব টুল অভিবাসী কর্মীদের শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনা হয়েছে। আইলও এবং আইএমওসহ আন্তর্জাতিক বহু সংস্থা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন বহুবার প্রকাশ হয়েছে। তৎকালীন সরকার সিন্ডিকেটের পক্ষে থাকার কারণে এটি বিলুপ্ত করা যায়নি এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ওই দুই সময়ে সরকারের নির্ধারিত সর্বোচ্চ অভিবাসন ফি ছিল ২০১৬ সালে ৪৭ হাজার এবং ২০২১ সালে ৭৯ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি কর্মীকে মালয়েশিয়ায় যেতে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে, সিন্ডিকেটের শিকার হয়ে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুরোনো পদ্ধতির ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বদনামের কারণে এবার তারা নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে কর্মী নিয়োগ, অর্থ আদায় ও এজেন্সি নিয়ন্ত্রণের জন্য। একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে এজেন্সি ও কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এবার তাদের আকর্ষণীয় স্লোগান হলো—জিরো কষ্টে কর্মী প্রেরণ। তবে অতীতে নির্ধারিত টাকার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ নেওয়ার কারণে এবার এই প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। বাস্তবে এটি বাজার উন্মুক্ত করার একটি কৌশল মাত্র। তাদের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো হলে প্রতিজনকে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি জিরো কষ্টে কর্মী রফতানির আড়ালে তারা ২৫টি এজেন্সি নিয়ে নতুন একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এই ২৫টি এজেন্সির বাইরে অন্য কোনো এজেন্সি কর্মী রপ্তানি করতে পারবে না বলেও সদস্যদের নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে। যারা সিন্ডিকেটে যুক্ত হতে আগ্রহী, তাদের কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম নেওয়া হচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে। একদিকে সরকারকে জিরো কষ্টের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে সিন্ডিকেটের সদস্য হতে ১৫ কোটি টাকা নেওয়া হচ্ছে।