লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ‘জুলাই ফাইটার্স’ নামের একটি সংগঠনের পালটাপালটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে জেলা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। অন্যদিকে ছাত্রদল এই অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা ‘মব-সন্ত্রাস’ ও পুলিশের ওপর হামলার দাবি করেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক ও নেতারা অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেন, ‘জুলাই ফাইটার্স’ নামের কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব আগে ছিল না; মূলত ছাত্রদলই এই ব্যানারে তাদের ওপর হামলা করেছে। এমনকি হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বৈছাআ’র জেলা আহ্বায়ক আরমান হোসাইন, মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিয়ান রায়হান ও সদস্য হাবিবুর রহমান ফাহিমসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আরমান অভিযোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফাহিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনায় প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা বিক্ষোভের ডাক দেন। তার দাবি, সেখানে ১৪৪ ধারা জারির মতো পরিস্থিতি ছিল না; বরং ছাত্রদল ‘জুলাই ফাইটার্স’ ব্যানারে পালটা কর্মসূচি দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে আটক ও পরে মুক্তি পাওয়া নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদ দাবি করেন, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ছাত্রদল তাদের ওপর হামলা চালায়। তবে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ভিডিও ফুটেজ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
সদর (পূর্ব) উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বাবু বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ১৪৪ ধারা জারির পর ঘটনাস্থল থেকে চলে আসি। অথচ সমন্বয়ক পরিচয়ে একদল লোক মব-সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। ছাত্রদল কখনো মববাজ বা চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেয়নি এবং দিবেও না।’
জেলা ছাত্রদল সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম জানান, ওইদিন ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচি ছিল না, বরং প্রোগ্রাম ছিল ‘জুলাই ফাইটার্স’ নামের একটি সংগঠনের। তিনি দাবি করেন, তারা কারোর সঙ্গে বিরোধে জড়াননি; বরং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরিচয় দিয়ে একদল লোক ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে হামলা চালালে পুলিশ তাদের প্রতিহত করে। এখন নিজেদের দোষ ঢাকতে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন-
লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা জারি: সকল ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
১৪৪ ধারা ভেঙে লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মিছিল, সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ১০
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে শহরের চকবাজার এলাকায় দুপক্ষের পালটাপালটি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিলেও সংঘর্ষে ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন; তবে এ ঘটনায় কেউ আটক নেই।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফাহিম ও ছাত্রদল নেতা মুন্নার সংঘর্ষের জেরে দুপক্ষই একই স্থানে বিক্ষোভ ডাকলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউএনও ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা রোববার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পৌর শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন।