Monday 06 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল না করার কোনো বিকল্প নাই’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৯

ঢাকা: বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে একটি জনবান্ধব এবং পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমশিন গঠন প্রয়োজন তার কোনো প্রতিফলনই অধ্যাদেশটিতে হয়নি। যা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রস্তাবিত বিএনপি সহ সকল রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে জুলাই সনদে অর্ন্তভুক্ত সুপারিশ ও সিদ্ধান্তের সাথে সাংঘর্ষিক। কাজেই পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করা ছাড়া কোনো বিকল্প নাই।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে ‘রাষ্ট্র্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত কতিপয় অধ্যাদেশ বাতিল ও পরিবর্তন বিষয়ে টিআইবির অবস্থান’ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশনের প্রত্যাশা পদদলিত করে, এমনকি ‘স্বাধীন’ বা ‘নিরপেক্ষ’ শব্দগুলো ব্যবহার না করে শুধুমাত্র একটি ‘সংবিধিবদ্ধ সংস্থা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। একই সাথে এর গঠন, কার্যপরিধি ও প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিধানসমূহ এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রস্তাবিত বএিনপি ও সকল রাজনতৈকি দলরে সম্মতি সহ জুলাই সনদে অর্ন্তভুক্ত সুপারিশ ও সিদ্ধান্তের সাথে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে এ অধ্যাদেশের বলে যদি পুলিশ কমিশন গঠিত হয় তবে তা হবে সম্পূর্ণভাবে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশি ও প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান, যা এধরনের কমিশনের মৌলিক উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, পুলিশ কমিশনের চেয়ারপার্সন ও সদস্য নিয়োগের বাছাই কমিটির গঠন ও কর্মপদ্ধতি পরিপূর্ণভাবে আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে, যার ফলে কমিশন গঠন ও কাজে ক্ষমতাসীন সরকারের পরিপূর্ণ কর্তৃত্ব ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের ক্ষেত্র সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, যা চরম দুর্বলতার কারণে সম্পূর্ণ বাতিলযোগ্য সেটিতে প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশনকে অধিকতর সরকারি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার বিধান সংযুক্ত করে বিল আকারে পাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি।

এদিকে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের পাশাপাশি জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫ বাতিল করতে হবে বলে জানিয়েছে টিআইবি। এবিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই অধ্যাদেশটিতে এমন একটি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে যে একই সাথে তথ্য আন্ত: পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ একইসাথে নিয়ন্ত্রক ও সেবা দাতা, যা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করবে। জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা ‘কর্তৃপক্ষ উহার দায়িত্ব পালন ও কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবে’ বলা হলেও এই কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ বাছাই করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি। ফলে বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই প্রক্রিয়ায় সরকারের পছন্দ এবং অনুগত লোকজনই এই সুযোগ লাভ করবেন বলে তাদের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত চারটি সংশোধনী অধ্যাদেশও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দূর্বলতায় দুষ্ট। মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার যেমন- সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা এবং প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা পায় সরকার। যেখানে বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থে সরকার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করার কথা বলা হয়। কিন্তু নির্বাচিত সরকারও নিজের ইচ্ছেমত সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী।

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর