ঢাকা: ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার আসামি মো. ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমেদের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে ইমান উল্লাহকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত সেদিন তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।
মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৪ এপ্রিল দুপুরে কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ধারণা করছে, কারখানায় মজুত দাহ্য পদার্থ বা কাঁচামাল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দগ্ধ কয়েকজন জাতীয় বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ইমান উল্লাহ এই ঘটনার মূল হোতা এবং তার নেতৃত্বে অবৈধভাবে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছিল। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানালেও রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কদমতলী এলাকার একটি গলিতে অবস্থিত মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কার্যক্রম চলছিল। একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে কারখানাটি বন্ধ করলেও তা গোপনে পুনরায় চালু করা হয়। সেখানে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ ব্যবহার এবং শিশু শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল রানা ইমান উল্লাহসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অন্য দুই আসামি হলেন কারখানার মালিক মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম এবং তার ছেলে আহনাফ আকিফ আকরাম।