ঢাকা: শেরপুর-৩ এবং বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন ও সাধারণ নির্বাচনে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুই আসনের নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে আইন শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পরিদর্শন শেষ তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সিইসি বলেন, দুই আসনের নির্বাচনটি যেন আগের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে ভালো হয় এবং কোনোভাবেই খারাপ না হয়, সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শেরপুর-৩ আসন সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
সিইসি জানান, সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে এসে ভোট দিচ্ছেন এবং ভোট দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য হওয়ায় এখানে উপ-নির্বাচন হচ্ছে। আর শেরপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই আসনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীন ভাবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বগুড়া-৬ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত মো. রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. আবিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. আল-আমিন তালুকদার।
বগুড়া-৬ এ ভোটকেন্দ্র ১৫০টি, ভোটকক্ষ ৮৩৫টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন।
এদিকে এ নির্বাচনি আসনে নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে ২৫০ জন, বিজিবি ৮ প্লাটুন (১৮৯ জন), র্যাব ১০টিম (৭০ জন), পুলিশ এক হাজার ৩২৭ জন ও আনসার ভিডিপি ১ হাজার ৯৯০ জন।
আর শেরপুর-৩ আসনেও তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান।
এ আসনে ভোটকেন্দ্র ১২৮টি, ভোটকক্ষ ৭৫১টি। ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৮০৬ জন।
নির্বাচনি নিরাপক্তায় সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন ১৪০ জন, বিজিবি ১৬ প্লাটুন (৩২৮ জন), র্যাব ১৪টিম (১৩৫ জন), পুলিশ এক হাজার ১৫৫ জন ও আনসার ভিডিপি এক হাজার ৭০৪ জন।
ইসির নির্বাচনি পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, এ দুটি আসনে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র বিবেচনায় ১৮ থেকে ২০ জন নিরাপত্তা সদস্য থাকছে। দুই আসন মিলে মোট ৩৬ জন নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োজিত রয়েছেন। পোস্টাল ভোট রয়েছে এ দুটি আসনে। ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষক মোতায়েন থাকছে ১৮ জন করে। স্থানীয় সংস্থার পযবেক্ষক থাকছে চার শতাধিক।
এ ছাড়াও এ দুই আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ভোটগ্রহণের সঙ্গে রয়েছেন ৫ হাজারের মতো কর্মকর্তা।