ঢাকা: বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ জ্বালানির মজুত রয়েছে, তা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথেষ্ট নয়- বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার এসোসিয়েশন-এর সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক।
তিনি বলেন, বিদ্যমান মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে, আর বাজারে অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা বা সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত সংকটজনক হয়ে উঠতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ডিসিসিআই আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানির দৈনিক চাহিদার চিত্র তুলে ধরে মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, দেশে প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৫ হাজার টন ডিজেল, ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টন অকটেন এবং ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টন পেট্রোলের প্রয়োজন হয়। এর বিপরীতে বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার টন, অকটেন ৫৪ হাজার টন ও পেট্রোল ৩৮ হাজার টন। এ মজুত দিয়ে ডিজেল সর্বোচ্চ ৩১ দিন, অকটেন ২১ দিন এবং পেট্রোল ২৮ দিন পর্যন্ত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
সরবরাহ ও চাহিদার এ বাস্তবতার কারণে বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে- এমন মন্তব্য করে
তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্যানিক বায়িং ও মজুতদারির সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। ১২০ টাকা দরে কেনা জ্বালানি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, এমনকি কিছু মফস্বল এলাকায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সংকট মোকাবিলায় ব্যক্তি পর্যায়ে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, সরকারি পর্যায়ে মজুত সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি,আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর শুল্ক কমিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে দাম সহনীয় রাখা ও শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পেট্রোলিয়াম ডিলার সভাপতি বলেন, এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।