Thursday 09 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জ্বালানি খাতে মাসে আড়াই থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০১ | আপডেট: ৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫৩

ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দেশের জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহের সমন্বয় করতে গিয়ে সরকারকে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বিশ্ববাজারের অস্থিরতার প্রভাব তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপে পড়ে সরকার বিশাল অংকের এই ভর্তুকি দিতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এর প্রকৃত মূল্য হওয়া উচিত ছিল প্রায় ১৫৫ টাকা। এই বিশাল ব্যবধানের কারণেই সরকারকে প্রতি মাসে কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক লোকসান সইতে হচ্ছে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি সংকট নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগ ও আতঙ্ক নিরসনে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, দেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তাই অযথা তেল মজুত করা বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ভোক্তারা যদি তাদের স্বাভাবিক প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করেন, তবে নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত সরবরাহ বজায় থাকলে বাজারে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি কমে আসবে ।

তেল চুরিবাজ ও অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে মুখপাত্র জানান, সারাদেশে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। শুধুমাত্র গতকালই সারা দেশে ৩৬১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যেখানে ১৯২টি মামলা দায়ের এবং ৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এসব অভিযানে দুজনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত সর্বমোট ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে যার মাধ্যমে ৩১টি মামলা এবং মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত মোট ৩৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫২ হাজার ২৪৭ লিটার ডিজেল, ৩ হাজার ৬২১ লিটার অকটেন এবং ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার পেট্রোলসহ মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

দেশের বর্তমান মজুত পরিস্থিতির হিসাব দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে সরকারি ভাণ্ডারে ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ টন ডিজেল, ৯ হাজার ৫৬৯ টন অকটেন এবং ১ হাজার ৬৮২ টন পেট্রোল মজুত রয়েছে। আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় আগামী অন্তত দুই মাস অকটেন ও পেট্রোলের কোনো ধরনের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

অবৈধ মজুতের পেছনে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা আছে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি দায়ের করা মামলাগুলোর সঠিক তদন্ত চলছে। তদন্তে যদি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর