ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পাকিস্তান। অতি গুরুত্তপূর্ণ এই বৈঠককে সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানীতে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল না পৌঁছালেও ইরানের প্রতিনিধি দল এরই মধ্যে ইসলামাবাদে রয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে তারা পাকিস্তানে পৌঁছেছেন।
সূত্রমতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক পরিবহন বিমান সি-১৩০ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের নূর খান এয়ারবেসে অবতরণ করেছে। এতে থাকা অগ্রবর্তী নিরাপত্তা ও কৌশলগত দল বৈঠকের ভেন্যু ও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও সিআইএ সদস্যরাও ইসলামাবাদে পৌঁছে প্রস্তুতি জোরদার করেছেন।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির বাসভবনের সামনে পুলিশ কর্মকর্তারা পাহারায় রয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই বৈঠকের আয়োজন করেন। তার আমন্ত্রণেই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি হয়। ১০ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া এই আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল গঠন করেছেন। এতে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।
অন্যদিকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
কঠোর নিরাপত্তায় ইসলামাবাদ
এই বৈঠককে সামনে রেখে ইসলামাবাদের রেড জোনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, কূটনৈতিক এলাকা এবং শহরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেড জোনের নিরাপত্তা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ ও রেঞ্জার্স সদস্যদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর কুইক রেসপন্স ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা রেড জোনের ভেতরে একটি পাঁচতারকা হোটেলে অবস্থান করছেন, যেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানিয়েছেন, বিদেশি অতিথিদের জন্য কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুইবার আলোচনা হলেও তা সফল হয়নি; বরং প্রতিবারই সংঘাত নতুন করে শুরু হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেটি এখনও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরাসরি আলোচনায় বসা একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য পারস্পরিক আস্থা তৈরি করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।