ঢাকা: কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদ উদ্দিন বলেছেন, কৃষক কার্ড পুরোপুরি একটি অরাজনৈতিক ও আধুনিক উদ্যোগ হিসেবে প্রবর্তন করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে অতীতে যে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ছিল, তা কাটিয়ে উঠে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কৃষকদের উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন যে, যেহেতু দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত, তাই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হলে পুরো দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদ উদ্দিন এক প্রশ্নের উত্তরে এসব বলেন।
মন্ত্রী জানান, এই কার্ডটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং এটি একটি তথ্যের ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান বিশেষত্ব ও সুবিধাগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, শুরুতে এই কার্ডে ১০টি বিষয়ে তথ্য থাকলেও পর্যায়ক্রমে এখানে আরও অনেক তথ্য যুক্ত করে একটি আধুনিক ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকের জমির মাটি পরীক্ষা করে কোন মাটির জন্য কোন ফসলটি সবচেয়ে বেশি উপযোগী, সেই তথ্য কৃষককে দেওয়া হবে, যা উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।
বাজার ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, দেশের চাহিদা অনুযায়ী কোন এলাকায় কী পরিমাণ ফসল উৎপাদন করা প্রয়োজন, তা এই ডাটাবেজের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে বাজারে পণ্যের মূল্য নির্ধারিত থাকলেও কৃষক অনেক সময় তা উপভোগ করতে পারেন না, কিন্তু এই কার্ডের মাধ্যমে চাহিদার সাথে উৎপাদনের সমন্বয় ঘটানো হবে, ফলে কৃষক ফসলের সঠিক মূল্য পাবেন। এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশের বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের প্রকল্প, যেখানে দলের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কৃষিকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।