Sunday 12 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য: সরকারের নির্দেশে জুলাই আন্দোলনে বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট

স্টাফ করেসপন্ডেট
১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৪ | আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০৫

ঢাকা: জুলাই আন্দোলনের সময় হঠাৎ ইন্টারনেট সেবা বন্ধের পেছনে সরকারের সরাসরি নির্দেশ ছিল বলে জানিয়েছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক মোল্লা।

রোববার (১২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ রেখে হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন ইমদাদুল।

বিজ্ঞাপন

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

জবানবন্দিতে ইমদাদুল হক মোল্লা বলেন, দেশে ইন্টারনেট সরবরাহের শেষ স্তরে রয়েছে আইএসপিগুলো। এর উপরে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) এবং ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি)। আইআইজি মূলত আইটিসি থেকে ব্যান্ডউইথ সংগ্রহ করে। ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেলে তারা আইআইজির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সেখান থেকে জানতে পারেন আইটিসি ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। তখনই তারা বুঝতে পারেন এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মহাখালীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে আগুন লাগার পর বিকেল থেকে কিছু এলাকায় ইন্টারনেট বিঘ্নিত হয় এবং রাত ৯টার পর সারা দেশে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

২৩ জুলাই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। এ সময় উপস্থিত আইএসপি প্রতিনিধিরা ইন্টারনেট চালুর অনুরোধ জানালে তিনি সেদিনই সেবা চালু হবে বলে আশ্বাস দেন।

তবে পলক যে আগুনের কারণে ডাটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ইন্টারনেট বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন, তা রাজনৈতিক বক্তব্য বলে মনে হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালে জানান ইমদাদুল। তিনি বলেন, আগুন লেগেছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে, ডাটা সেন্টারে নয়। কিছু ফাইবার অপটিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা নয়, কারণ দেশে একাধিক ডাটা সেন্টার সচল ছিল।

জবানবন্দি শেষে ইমদাদুলকে জেরা করেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ। মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন এবং তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর