ঢাকা: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও কৃষি খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়ার কারণে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দাকর আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জিডিপি’র তুলনায় রাজস্ব আদায়ের হার দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমুখী। ফলে সরকারের মোট আয় কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়লেও ব্যয়—বিশেষ করে ভর্তুকি—ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থিরতার কারণে সরকারকে বড় অংকের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। একইভাবে কৃষি খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সার, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য উপকরণে ভর্তুকি অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান কঠিন হয়ে পড়ছে। বড় অবকাঠামো প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের পরিধি সীমিত হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, নিয়মিত বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে ঋণের বোঝা বাড়ার পাশাপাশি সুদ পরিশোধে অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আর্থিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং করের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কর আদায় জোরদার করা গেলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানো এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে বড় প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যয়ের অপচয় কমানো সম্ভব হয়।