চট্টগ্রাম: দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সবার প্রতি ঐক্যের আহবান জানিয়েন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, ১৬ বছরের দুঃশাসন পেরিয়ে বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি শিরিষতলা এলাকায় বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নববর্ষ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সুফিয়ান। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘পুরাতন বছর ১৪৩২ বঙ্গাব্দকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করার এই ক্ষণে আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয় এবং আমরা যে দূষিত কার্বনডাই অক্সাইড ত্যাগ করি তা শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। ঐতিহাসিক সিরিষ গাছটি প্রায় ১২৫ বছর ধরে মানুষের উপকার করে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।’
করোনাকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মেয়র বলেন, ‘তখন মানুষকে অক্সিজেনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে, অথচ মহান আল্লাহ তায়ালা প্রকৃতির মাধ্যমে আমাদের প্রতিনিয়ত বিনামূল্যে অক্সিজেন দিচ্ছেন। তাই এই গাছপালা ও পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি শিরিষতলা এলাকায় বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
তিনি আরও বলেন, ‘একসময় সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় জনগণ তা প্রতিহত করতে দীর্ঘ ২৫০ দিন আন্দোলন চালায়। সেই আন্দোলনের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী স্থান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে, যা চট্টগ্রামবাসীর পরিবেশ সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’
মেয়র বলেন, ‘যদিও এই জায়গাটি রেলওয়ের অধীন, তবে এটি রক্ষা করার দায়িত্ব চট্টগ্রামের প্রতিটি নাগরিকের। কারণ এই শহর সবার, এবং সবাইকে মিলেই এটিকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘বাংলা মাস ও ছয় ঋতুর ঐতিহ্য সম্পর্কে তাদের ধারণা দিতে হবে। আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস ভুলে গেলে দেশপ্রেম গড়ে উঠবে না।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।
উদযাপন পরিষদের পক্ষে বক্তব্য দেন সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান, সাংবাদিক মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, এম আর মঞ্জু, নুরুল আফসার মজুমদার স্বপন, হাসান মারুফ রুমি, ফারুক তাহের, মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন সংগঠন ও শিল্পীরা।