ঢাকা: সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এসআইবিএল)-কে দুর্বল ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না করে স্বতন্ত্রভাবে পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবদীন। একই সঙ্গে ব্যাংকটিকে ব্যাংক রেজুলেশন স্কিমের আওতার বাইরে রাখারও সুপারিশ করেন তিনি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত এক চিঠিতে তিনি এমন সুপারিশ করেন।
চিঠিতে বলা হয়, ২০১৭ সালে একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও শেখ হাসিনার নির্দেশে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সাইফুল আলম(এস আলম)। এর আগে ধারাবাহিকভাবে ভালো আর্থিক পারফরম্যান্স ছিল এবং শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে। বিগত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ,সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এস আলম কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত পরিচালনা পর্যদ ভেঙে দিয়ে ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের হাতে ফেরত না দিয়ে কোন রকম আলোচনা ছাড়াই ৪ (চার) জন স্বতন্ত্র পরিচালক ও যাত্র ১ (এক) জন উদ্যোক্তা পরিচালকের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে । যা ছিল ব্যাংকটিতে আর্থিক দুরবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য একটি অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের অনেক উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডাদের পরিচালক হওয়ার যাবতীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পরিচালনা পর্ষদে তাদের যুক্ত করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্ণর বিষয়টি আমলে নেয়নি। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করলেও প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের অন্তর্ভুক্ত না করায় গ্রাহকদের আস্থা কমে যায়।
চিঠিতে বলা হয়, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত উদ্দোক্তাদের উপরে ব্যাংকের পরিচালনা না দেওয়ায় ও গ্রাহক আস্থা না ফেরার কারণে তারা ব্যাংক হতে তাদের আমানত তুলে নিতে শুরু করে। যার ফলে ব্যাংকটি আরও সংকটে পরে।বাংলদেশ ব্যাংক যথেষ্ট অর্থের যোগান দিলেও ব্যাংটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
চিঠিতে আরও বলা হয়,বাংলাদেশ ব্যাংক যাদেরকে পরিচালানা পর্ষদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা দিয়েছে,তারা কেউ এর আগে কোন ব্যাংকের পরিচালনার সাথে যুক্ত ছিলেন না। ব্যাংক পরিচালনার কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রায় দেড় বছরেও অনভিজ্ঞ পর্ষদ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্ণর ব্য়াংকটি পরিচালনা করে আরও ক্ষতিগ্রস্থ করেছেন।
সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্যাংকটিকে অকার্যকর ঘোষণা করে ব্যাংক রেজুলেশন স্কিমের আওতায় নেওয়া হয়, যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ বিষয়ে ইতিমধ্যে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে রুল জারি করলেও তার জবাব না দিয়েই একতরফাভাবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ব্যাংকটির প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে দিলে এবং নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত করা হলে।এসআইবিএল দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এবং আবারও একটি লাভজনক ব্যাংকে পরিণত হতে সক্ষম হবে।
সবশেষে, এসআইবিএল-কে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না করে আলোচনার মাধ্যমে পুনর্গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।