Sunday 24 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেল চসিকের ৩ হাজার ২৭০ পরিচ্ছন্নতা কর্মী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৪ মে ২০২৬ ২০:৫৬

– ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম:  জেলা সিটি কর্পোরেশন (চসিক)-এর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ উপহার হস্তান্তর করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এবার চসিকের মোট ৩ হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার পেয়েছেন।

এর আগে গত শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের হাতে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। গত ঈদুল ফিতরেও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা জানিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই একটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার মূল চালিকাশক্তি। তারা দিন রাত পরিশ্রম করে, রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরবাসীর জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করার জন্য এই ঈদ উপহার প্রদানের সংস্কৃতি চালু করেছেন। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই ঈদ উপহার একটি মানবিক উদ্যোগ, যা কর্মীদের মনোবল আরও বাড়াবে। ইনশাল্লাহ বর্ষায় পরিচ্ছন্নকর্মীরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন সেজন্য রেইনকোট প্রদানের উদ্যোগও নিয়েছি।’

তিনি জানান, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্র্রী অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন। তিনি আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে আবাসন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনে মোট ১ হাজার ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে প্রায় ৬০০ বর্গফুট।

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ, যার উপর পুরো নগরের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যার ফলে শহরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা অনেকটাই উন্নত হয়েছে। তবে এখনও কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে ময়লা পরিবহনের সময় রাস্তায় বর্জ্য পড়ে যাওয়া, যানবাহন দ্রুত চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

মেয়র নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে চসিক বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের লক্ষ্যে রিসাইক্লিং, বায়োগ্যাস, গ্রিন ডিজেল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত দেশগুলো বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করছে, আর আমাদের দেশে এখনো অনেকেই অনিয়মভাবে বর্জ্য ফেলছেন, যা জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।

তিনি জানান, বাসা থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও নাগরিকদের আপত্তির কারণে তা বন্ধ করা হয়েছে। এখন চসিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মেয়র পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই শহর আমাদের সবার। আপনারা যদি আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।