।। স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।
ঢাকা: রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় রাতের আঁধারে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে ১১ সদস্যের একটি ছিনতাইকারী চক্র। অথচ দিনের বেলায় তারা কেউ কাপড়ের ব্যবসায়ী, কেউ মোবাইলের যন্ত্রাংশ বিক্রেতা, কেউ পিকআপ বা রিকশা চালক অথবা কেউ চায়ের দোকানদার। দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে অবশেষে চক্রটিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১ এর একটি দল।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) বিকেলে সারাবাংলাকে এসব তথ্য জানান র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম। দীর্ঘদিন ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারির পর গতকাল রাত ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানান তিনি।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. আলমগীর (৫০), মো. আব্দুল হালিম (৩০), মো. খোকন মিয়া (৫০), মো. অরুণ মিয়া (৩৫), মো. সেন্টু মিয়া (৩৫), মো. আলমগীর (২০), মো. রফিক (২৮), মো. শাকিল (২০), মো. নুর আলম (২৪), মো. বাদশা (১৯) ও (১৯) মো. বিশাল খান।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি ধারালো ছোরা, ২টি চাপাতি, ১টি ছিনতাইকৃত ট্যাব, ১২টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৬ হাজার ৯১০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক মো. সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘টঙ্গী ও এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি ছিনতাইকারী চক্র সক্রিভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তারা টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের অস্ত্র দেখিয়ে বিভিন্নভাবে ভীতি প্রদর্শন করে তাদের কাছ থেকে মোবাইল, টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করতো। এমন সংবাদে র্যাব-১ তাদের ওপর ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।’
তিনি বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্রের ওই সক্রিয় ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এই ১১ জনের মধ্যে গ্রেফতার মো. আলমগীর চক্রটির মূল হোতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘টঙ্গীতে আলমগীরের একটি কাপড়ের দোকান আছে। কাপড়ের ব্যবসার পাশাপাশি সে এই ছিনতাইকারী চক্রের নেতৃত্ব দিত। তার নেতৃত্বে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা মোবাইল এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে নিয়ে আসত। সেসব ছিনতাইকৃত মোবাইল এবং অন্যান্য সামগ্রী অন্যত্র বিক্রয় করত সে। দীর্ঘ ১০/১১ বৎসর যাবত এই ছিনতাই কাজ করে আসছে বলে স্বীকার করেছে সে।’
বাকি আসামিদের মধ্যে- আব্দুল হালিম টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনে হেডফোন এবং মোবাইলের যন্ত্রাংশ বিক্রয় করে। পাশাপাশি টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের টার্গেট করত এবং যাত্রী ফাঁকা জায়গায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতায় ছিনতাই করতো তারা।
খোকন মিয়া পিকআপ চালক, অরুন মিয়া টঙ্গী পূর্ব এলাকায় জ্বালানি কাঠ বিক্রয় করে। বাকিদের একজন পিকআপের হেলপার, দোকানদার, সেলুন দোকানদার, ইলেকট্রেশিয়ান এবং পুরাতন মালামাল বিক্রয় করতো বলে জানান তিনি। এসবের পাশাপাশি তারা রাতের আঁধারে ফাঁকা রাস্তায় ভয়ঙ্করভাবে ছিনতাই কাজ করতো বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।
সারাবাংলা/এসএইচ/এমও