৩০ জন করে আইনজীবী থাকবেন খালেদার জামিন শুনানিতে
১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:৩৬
ঢাকা: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে উভয় পক্ষের ৩০ জন করে আইনজীবী উপস্থিত থাকতে পারবেন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দিনের কার্যক্রমের শুরুতেই বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের প্রশ্নের মুখে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি শুরুর আগে তাদের এজলাসে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ১২ নম্বরে রয়েছে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি।
আরও পড়ুন- কড়া নিরাপত্তা, আপিল বিভাগে ঢুকতে দেওয়া হয়নি সব আইনজীবীকে
এদিন সকালে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আপিল বিভাগে প্রবেশ করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন। প্রবেশ পথে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনজীবীদের জানান, আপিল বিভাগের তালিকাভুক্ত আইনজীবী যারা (মোট ৬১৩ জন), কেবল তারাই আদালতে প্রবেশ করতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ অবস্থানের কারণে বিএনপিপন্থি অনেক আইনজীবীই আদালতে প্রবেশ করতে পারেননি।
পরে সকাল ৯টার পর আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বিএনপিপন্থি তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের যারা আদালতে প্রবেশ করেছিলেন, তারা শুরুতেই আইনজীবীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহমুদ হোসেন আদালতকে বলেন, আমাদের আইনজীবীরা আদালতে প্রবেশ করতে পারছেন না। এ বিষয়টির সমাধান করা প্রয়োজন। আজ শত শত পুলিশ আদালত এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু আইনজীবীরা আদালতে প্রবেশ করতে পারছেন না।
আরও পড়ুন- কার্যতালিকায় খালেদার জামিন শুনানি, আদালতের নিরাপত্তা জোরদার
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, আমাদের দুই পক্ষের ৩০ জন করে আইনজীবীকে উপস্থিত থাকার সুযোগ দিন। পরে আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত দেন, বিএনপি ও রাষ্ট্রপক্ষের ৩০ জন করে আইনজীবী জামিন আবেদনের শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
আদালত জানান, কার্যতালিকার ১২ নম্বর বিষয়টি (খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি) যখন আসবে, তখন পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে দুই পক্ষের ৩০ জন করে আইনজীবী উপস্থিত হতে পারবেন আদালতে।
আরও পড়ুন- খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আদালতে
এর আগে, আদালতে প্রবেশ করতে না পেরে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিএনপিন্থি আইনজীবীরা। তারা বলেন, ৬১৩ জন তালিকাভুক্ত আইনজীবীর বাইরে সুপ্রিম কোর্টের অন্য আইনজীবীদের প্রবেশ করতে না দেওয়াটা নজিরবিহীন। এমন ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া এসময় অভিযোগ করেন, বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের ঢুকতে না দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষ ও আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের যারা আপিল বিভাগের তালিকাভুক্ত নন, তাদেরও ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকেই হাইকোর্টের আশপাশের রাস্তাগুলোর মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শাহবাগ মোড় টিএসসি, চানখারপুল মোড়, মৎস্য ভবন, রমনা পার্ক, সচিবালয় রাস্তার সামনে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও অবস্থান করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আদালতে প্রবেশেও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিচার প্রার্থী সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি আইনজীবীদেরও তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে।
জানতে চাইলে রমনা জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আজিম উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন আদেশকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের নাশকতামূলক পরিস্থিতি তৈরি না হতে পারে, সেজন্যই আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।
ছবি: হাবিবুর রহমান
আপিল বিভাগ খালেদা জিয়া জামিন আবেদন জামিন শুনানি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট