Saturday 05 Apr 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভোটবিমুখতা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: মাহবুব তালুকদার


২ মার্চ ২০২০ ১৭:৩৫ | আপডেট: ২ মার্চ ২০২০ ১৭:৫৪

ফাইল ছবি

ঢাকা: সম্প্রতি বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটারদের ভোটবিমুখতাকে গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ভোটারদের ভোটবিমুখতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এর কারণ বিশ্লেষণ করে তা প্রতিকারের প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন। যেকোনো মূল্যে আইনিভাবে ভোটের প্রতি ভোটারদের আস্থার সংকট মোচন করতে হবে। ভোটাররা অবারিতভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিতে পারলেই কেবল জাতীয় ভোটার দিবস পালনের উদ্দেশ্য সফল হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় ভোটার দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো এই দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে। এই দিনেই হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে নির্বাচন কমিশন বলছে, এই দিনটিতে একজন ব্যক্তির নাগরিকত্বের স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বছর জাতীয় ভোটার দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘ভোটার হয়ে ভোট দেবো, দেশ গড়ায় অংশ নেব’।

জাতীয় ভোটার দিবসের আলোচনায় অংশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, গত বছর প্রথম জাতীয় ভোটার দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘ভোটার হব, ভোট দেবো’। এবারের প্রতিপাদ্য— ‘ভোটার হয়ে ভোট দেবো, দেশ গড়ায় অংশ নেব’। অর্থাৎ ভোটার হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা একধাপ এগিয়ে গেছে। ভোটার হিসেবে এখন আমরা উন্নয়নের অংশীদার হতে চাই। এই প্রতিপাদ্যের মর্মবাণী হচ্ছে যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে দেশগড়ায় অংশগ্রহণের আকাঙ্খার বাস্তবায়ন। এ কথায় অনিবার্যভাবে আমাদের মনে যে জিজ্ঞাসা উঠে আসে তা হচ্ছে— যাকে ভোট দেওয়া হলো, তিনি দেশ গড়ায় কতটুকু আত্মনিবেদিত হবেন?

বিজ্ঞাপন

মাহবুব তালুকদার আরও বলেন, সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বিষয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার অংশে বলা হয়েছে, ‘প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।’ এ কথার অর্থ— নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতায় অংশ নেবে। সে কারণেই একটি গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন এত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের পূর্বশর্তই হলো নির্বাচন।

তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে যিনি প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, তাকে সত্য মূল্য দিয়েই তার আসনটি লাভ করতে হবে। অবৈধভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পক্ষে সংবিধানে উল্লিখিত ‘জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ’ নিশ্চিত হতে পারে না। নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার প্রতিটি আইনকানুন ও আচরণবিধি কঠোরভাবে পালনের মধ্য দিয়ে শুদ্ধ ও সুন্দর নির্বাচন করে আমরা গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত ও সৌন্দর্যমন্ডিত করতে চাই।

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোট জনগণের পবিত্র আমানত। এই আমানত যেন লুণ্ঠিত না হয়, সেজন্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। এজন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। ভোট দুই অক্ষরের ছোট শব্দ হলেও এর ব্যাপ্তি অত্যন্ত বিস্তৃত, বিশাল ও ব্যাপক। ভোট জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতীক ও জনগণের রক্ষাকবচ।

মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের দু’টি অর্জন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ভোটার নিবন্ধন ও তালিকা প্রণয়ন। এটি জাতীয় তথ্যভাণ্ডার ও দেশের এক অনন্য সম্পদ। মনে রাখা প্রয়োজন, নির্ভুল ভোটার তালিকা না হলে শুদ্ধ নির্বাচন সম্ভব নয়। অন্য অর্জন হলো ভোটারদের স্মাট কার্ড প্রদান। প্রতিটি স্মার্ট কার্ডধারী ব্যক্তি দেশের পূর্ণ নাগরিক হিসেবে গৌরব অনুভব করতে পারেন। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্মাটকার্ডটি তার আত্মপরিচয়ের স্মারক। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা পা বাড়িয়েছি। সেটি হচ্ছে, প্রবাসীদের ভোটার হিসাবে নিবন্ধন। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ফাইল ছবি

জাতীয় ভোটার দিবস নির্বাচন কমিশন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ভোটার দিবস

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর