‘অপরাধীর দলীয় পরিচয় নেই, তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে’
৯ জুলাই ২০২০ ১৪:০৭ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ১৮:৪৭
ঢাকা: যেকোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান কঠোর বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, যতই ক্ষমতাধর হোক তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত ভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তার বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রেড জোনভুক্ত জেলা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে উন্নতমানের সামগ্রীগুলো পাঠানো হয়।
করোনা সংকটের পাশাপাশি বন্যা দুর্গত অসহায় মানুষদের সুরক্ষা সরকারের জন্য নতুন আরেকটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রতি বছর নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে সংকটের সাহসী ও মানবিক নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্য। দুর্যোগকালে মানবিকতার আধার ও আস্থার ঠিকানা শেখ হাসিনা সবসময় অসহায় মানুষের পাশে আছেন।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা জানেন, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। সততা ও নিষ্ঠার প্রতীক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তা অব্যাহত রয়েছে। তিনি নিজ থেকেই ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করেছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে যারা বা যে অশুভ চক্র প্রতারণা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে। এসব অভিযান বাহির থেকে কেউ ধরিয়ে দেয়নি। সরকার নিজ উদ্যোগে শুরু করেছে।’
হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ, প্লাজমা ডোনেশন, সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয়, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি সংগ্রহসহ স্বাস্থ্যখাতে নানান অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছ এবং তা অব্যাহত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, সে যতই ক্ষমতাধর হোক তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে।’
যারা জনগণের অসহায়ত্ব নিয়ে অবৈধ ব্যবসা করছে, প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ওবায়দুল কাদের।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকারের নানামুখী উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৫০ লাখ মানুষের মধ্যে ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু অসামঞ্জস্য ধরা পড়ায় সরকার নিজ উদ্যোগেই তদন্ত পূর্বক যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত অসহায়দের কাছে সহায়তার টাকা পৌঁছে দিচ্ছে।’