খাল দখল করে গড়া ইউএসটিসির ভবন ভাঙছে সিডিএ
১০ মার্চ ২০২১ ২০:৩১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: খালের ভূমি দখল করে গড়ে তোলা বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) একটি বহুতল ভবনের একাংশ ভেঙে দিচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।
বুধবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর জাকির হোসেন সড়ক সংলগ্ন ‘গয়না ছড়া খালের’ জমিতে গড়ে তোলা ১৮তলা ভবনটির একাংশ উচ্ছেদ শুরু করে সিডিএ। পুরো কাজ শেষ হতে ১০-১১ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিডিএ’র স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল আলম চৌধুরী। চারটি বুলডোজার ও শ’ খানেক শ্রমিক নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এ সময় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সেনাবাহিনীর সদস্যরা ও পুলিশ সেখানে ছিল।
রেলওয়ের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য জমি ইজারা নিয়ে ১৮ তলা ভবন তৈরি করে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ। সিডিএ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ভবনটির নকশা অনুমোদন ছিল ১৬ তলার। এছাড়া তারা ইজারা নেওয়া জমিতে ভবন না বানিয়ে গয়না ছড়া খালের ভূমি দখল করে ভবনের একাংশ তৈরি করে। যার ফলে খাল পুনঃখনন, খাল পাড়ে রাস্তা নির্মাণ ও সিল্ট ট্র্যাপ (বালির ফাঁদ) নির্মাণের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
জলাবদ্ধতা প্রকল্পের পরিচালক সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মঈনুদ্দিন জানিয়েছেন, ১৩ হাজার বর্গফুটের ভবনটির ৪ হাজার বর্গফুট ভাঙা হচ্ছে। খালের জমি থেকে সরে যেতে ২০১৯ সালের অক্টোবরে সিডিএ ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েও নিজেরা ভবনটি অপসারণ করেনি।
সিডিএর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘২০১৯ সালেও শিক্ষার্থীদের তারা আমাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। তখন তারা দুই মাস সময় চেয়েছিল। আমরা তিন মাস দিয়েছিলাম। কিন্তু, ১৪ মাস চলে গেছে, তারা কোনো কাজ করেনি। এখন আমরা আসার পর তারা আবারও শিক্ষার্থীদের জড়ো করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে।’
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী জানিয়েছেন, খালের জমি দখল করে গড়ে তোলা ভবনটির অংশ ভাঙতে ১০-১১ দিন সময় লাগবে।
এ বিষয়ে ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে পারেনি সারাবাংলা।
সারাবাংলা/আরডি/এমআই