Friday 09 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অনলাইনে ঈদ কেনাকাটা জমে উঠেছে

এমদাদুল হক তুহিন সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ মে ২০২১ ০৯:৪১ | আপডেট: ৩ মে ২০২১ ১২:৪৪
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: ঈদ উপলক্ষে অনলাইন কেনাকাটা জমে উঠেছে। বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ ও ই-কমার্স সাইটে চলছে   বিভিন্ন পণ্য ও প্রসাধনী বিক্রি। বিক্রেতারা বলছেন, গত রোজার ঈদের চেয়ে এবার বেচাকেনা ভালো। বিক্রি বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। তবে কেউ কেউ বলছেন, বিক্রি তেমন ভালো নয়। কারণ ক্রেতারা মার্কেটে গিয়ে দেখেশুনে ঈদ শপিং করতেই সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ই-কমার্স সাইট আজকের ডিল’র সিইও ফাহিম মাশরুর সারাবাংলাকে বলেন, সাধারণ রোজার ঈদের চেয়ে এবার বেচাকেনা কম। গত রোজার ঈদে আমাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধই ছিল। কারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে গেছে। তবে এবার কিছু বেচাকেনা হচ্ছে।

ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল সারাবাংলাকে বলেন, এবারের ঈদে অনলাইন কেনাকাটা ভালো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ গত বছরের করোনা সময়ের থেকেও বেশি এবার অনলাইনে কেনাকাটা করছেন। যদি ইভ্যালির কথাই বলি, তাহলে আমাদের রমজানে অর্ডারের সংখ্যা সাধারণ সময়ের থেকে প্রায় দ্বিগুণ।

বিজ্ঞাপন

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গত রোজার ঈদের সঙ্গে এবারের রোজার ঈদের একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হচ্ছে যে, গত ঈদে অনেক গ্রাহক অনলাইনের বাইরে ছিলেন। তারা অনলাইন শপিংয়ের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছেন। এবার তারা আরও বেশি অনলাইনে কেনাকাটা করছেন। গত রোজার সময় আমাদের বিক্রীত পণ্যের মূল্য থেকে এবারের মূল্য অন্তত তিন গুণ বেশি।

ই কমার্স সাইট পুষণাবিডি ডটকমের মালিক শারমিন সুলতানা সারাবাংলাকে বলেন, গত বছর ঈদের আগে অনলাইন শপটি চালু করা হয়। এরপর লকডাউন শুরু হয়। ফেসবুকে পেজ চালুর পরপরই বিক্রির ধুম পড়ে যায়। খুব ভালো বিক্রি হয়েছিল। এরপর বিজনেস বড় করি। এবার ঈদ উপলক্ষে অনেক টাকা বিনিয়োগ করি। কিন্তু বিক্রি নেই। গত বছর প্রতিদিন যা সেল হতো, এবার এক সপ্তাহে তার অর্ধেক সেলও নেই।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মানুষ ঘরবন্দি থাকার পর এবার একেবারে খাঁচ উম্মুক্ত করে দিয়েছে সরকার। তাই মানুষ বাইরে বের হচ্ছে, কেনাকাটাও করছে।

ফেসবুকে হ্যান্ডমেইড শাড়ি, পাঞ্জাবি ও বাচ্চাদের কাপড় বিক্রির একটি পেজ ‘রংধনু ক্রিয়েশন’। এই পেজের উদ্যোক্তা শাহনাজ সুলতানা সারাবাংলাকে বলেন, এবার বেচাকেনা মোটামুটি ভালোই চলছে। বৈশাখের চেয়ে বেচাকেনা ভালো। আমার এখানে দেশের বাইরের ক্রেতা বেশি। দেশের অনেক অর্ডার নিতেই পারিনি। কারণ লকডাউন চলাকালে অনেক অর্ডার এসেছে। যেহেতু আমার হাতের তৈরি কাজ, তাই আগে থেকেই অর্ডার নিতে হয়। তাই চাহিদা থাকলেও অর্ডার নিতে পারিনি।

কাতান, বেনারসি, সুতি কাপড় ও শাড়ি বিক্রেতা পেজ ‘অংশু’। এই পেজের উদ্যোক্তা তানজিলা হক সারাবাংলাকে বলেন, গত রোজার ঈদের চেয়ে এবার বেচাকেনা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ বেশি। বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে। তবে সাধারণ সময়ের তুলনায় বেচাকেনা অনেক কম। আরও এক সপ্তাহ বেচাকেনা হবে বলে আশা করছি।

কইন্যা’ নামক একটি ফেসবুক পেজের উদ্যোক্তা বাঁধন মাহমুদ সারাবাংলাকে বলেন, বৈশাখ বা ফাল্গুনে অনলাইনে কেনাকাটা বাড়লেও ঈদে কিন্তু তা বাড়ে না। ঈদের কেনাকাটা মানুষ দেখেশুনে করতেই পছন্দ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার সারাবাংলাকে বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে ঈদ আসছে। সাধারণ মানুষের পারসেপশন হচ্ছে যেহেতু লকডাউন চলছে, অনলাইনে হয়ত ঈদ কেনাকাটা চলছে অনেক বেশি। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। ই-কমার্স সাইটগুলোকে অনেক কষ্ট করে টিকে থাকতে হচ্ছে। সাধারণ যেকোনো ঈদের চেয়ে করোনাকালীন ঈদে বেচাকেনা এমনিতেই কম। এখনও অনলাইনে নিত্যপণ্যের চাহিদাই বেশি।

তিনি আরও বলেন, ঈদ কেনাকাটা, ফ্যাশন বা লাইফ স্টাইলের পণ্যগুলোর চাহিদা এখন সেই অর্থে নেই। করোনার কারণেই গত দুই বছর ধরে এসব পণ্যের চাহিদা কম। হয়তো ঈদের দুই একদিন আগে ই-কমার্স সাইটগুলোতে ঈদ পণ্যের কেনাকাটা বাড়বে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এসএসএ
বিজ্ঞাপন

আরো

এমদাদুল হক তুহিন - আরো পড়ুন