কক্সবাজার: ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় শুক্রবার (৩ নভেম্বর) থেকে সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন জেলারা। এতে কক্সবাজারের জেলে পল্লীগুলোতে চলছে উৎসবের আমেজ। এবার জালে প্রচুর ইলিশসহ সামুদ্রিক অন্যান্য মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করছেন জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। এতে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ের ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা।
এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতিসহ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মৌসুমে ইলিশ মাছ ধরার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছেন মৎস্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা।
সাগরে মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয় গতকাল বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) মধ্যরাতে। এতে কক্সবাজারের জেলে পল্লীগুলোতে চলছে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আর এই প্রস্তুতি ঘিরে জাল মেরামত, ট্রলারে চাল-ডাল-তেলসহ নানা উপকরণ এবং জ্বালানি তেল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটছে জেলে ও ট্রলার মালিকদের। এ নিয়ে বিরাজ করছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা। আবারও ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে ফেরার আশায় বুক বাঁধছেন তারা। তবে নিষেধাজ্ঞাকালে ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের জেলেরা সাগরে মাছ ধরা অব্যাহত রাখায় প্রত্যাশা পূরণে দুশ্চিন্তাও রয়েছে তাদের।
জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানান, নিষেধাজ্ঞাকালে কর্মহীন থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা কষ্টে ছিলেন। সরকারিভাবে সহায়তার যে বরাদ্দ তা চাহিদার তুলনায় ছিল অপ্রতুল। তাই সহায়তার এই বরাদ্দের পরিমাণ আরও বাড়ানোর দাবি করেন।
ট্রলার মালিক জয়নাল আবেদীন জানান, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে তারা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় গত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর তারা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশসহ অন্য প্রজাতির মাছ ধরতে পারেননি। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন।
কক্সবাজার সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা তারাপদ চৌহন জানান, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালে নিবন্ধিত জেলেদের সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। জেলার আর কিছু জেলে অনিবন্ধিত রয়েছেন। ভবিষ্যতে এসব জেলের নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় চলতি মৌসুমে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ ধরার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।
কক্সবাজারে জেলের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ২২ হাজারের অধিক নিবন্ধিত জেলে। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালে নিবন্ধিত এসব জেলেদের সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ট্রলারের সংখ্যা অন্তত ছয় হাজার।
প্রসঙ্গত, গত ১২ অক্টোবর প্রথম প্রহর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। সেই নিষেধাজ্ঞা গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত ১২টায় শেষ হওয়ায় আবারও ইলিশ ধরার জন্য সাগরে যাচ্ছেন জেলেরা।