Thursday 05 September 2024
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিরাজগঞ্জে দফায় দফায় সংঘর্ষ-হামলা, ১৩ পুলিশসহ নিহত ২৩

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৪ আগস্ট ২০২৪ ১৯:৪১

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সিরাজগঞ্জ। ছবি: সারাবাংলা

সিরাজগঞ্জ: কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগের প্রথম দিনে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে এনায়েতপুর থানায় হামলার সময় ১৩ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ সদর, রায়গঞ্জ ও শাহজাদপুর উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও এক সাংবাদিকসহ নিহত হয়েছেন ১০ জন।

রোববার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব স্থানে সংঘর্ষ-সংঘাতের মধ্যে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি।

পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যে এনায়েতপুর থানায় ঢুকে ১৩ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। এ দিন বিকেলে দুর্বৃত্তরা এনায়েতপুর থানায় হামলা চালায়। থানায় ঢুকে তারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। থানায় দায়িত্বরত ১৩ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করে। তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এদিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে এক সাংবাদিকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত মানুষ।

রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন— রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ছাওয়ার লিটন, বায়গঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক খবরপত্রের রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি প্রদীপ কুমার ভৌমিক, রায়গঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ইলিয়াস এবং ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাছনিয়ান টিটু।

সিরাজগঞ্জ সদরেও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও চারজন। এর বাইরে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। এ সময় সাবেক এক সংসদ সদস্যসহ তিন সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু জানান, নিহতরা হলেন— সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক রঞ্জু রহমান, যুবদল কর্মী সুমন শেখ ও ছাত্রদলের কর্মী আব্দুল লতিফ।

এ দিন সকাল ১১টা থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা ধরে তাদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরী, সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত মুন্না ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। শহরের বাজার স্টেশন, এস এস রোড, মুজিব সড়ক এলাকা রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালত, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, মুক্তির সোপান স্মৃতিসৌধ, শিল্পকলা একাডেমিসহ শহরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। আগুন দেওয়া হয় অনেক স্থানে। এনায়েতপুর ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা ছাড়াও বেলকুচি ও উল্লাপাড়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়।

দিনভর চলমান এই সংঘর্ষে শাহজাদপুর উপজেলায় নিহত হয়েছেন খুকনী ইউনিয়নের শাহজাহান আলীর ছেলে ইয়াহিয়া। শাহজাদপুরেও পুলিশ, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বেশ কিছু স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

অসহযোগ কর্মসূচি কোটা সংস্কার আন্দোলন টপ নিউজ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিরাজগঞ্জ


বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
সম্পর্কিত খবর