Thursday 03 Apr 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

উপ-পরিচালকের পদ জটিলতায় হাসপাতাল ‘খোঁড়া’


৪ জুন ২০১৮ ১১:১০ | আপডেট: ৬ জুন ২০১৮ ১১:০৩

।। আমজাদ হোসেন মিন্টু, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট ।।

বগুড়া: উপ-পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক) পদ নিয়ে সৃষ্ট প্রশাসনিক জটিলতায় বগুড়ার সরকারি মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের কর্মচারীদের বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে রোগীদের ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রেও। জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ঘাটতি, ক্রয় ও সরবরাহে জটিলতা দেখা দিয়েছে এ কারণে। আর্থিক বছরের শেষে এসে বরাদ্দকৃত নানা খাতের অর্থ ব্যয় করতে না পারায় পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে।

বিজ্ঞাপন

কর্মচারীদের বেতন বন্ধ থাকায় তাদের ঈদ উৎসব ম্লান হতে বসেছে। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১২০ জন কর্মচারী বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের সার্বিক পরিচালনায়।

সূত্র জানায়, সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ভঙ্গ করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মশিউল আলমকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে ২৫ এপ্রিল থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি উল্লেখ করে তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংযুক্ত করা হয়। এর ফলে এপ্রিল থেকে মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের উপ-পরিচালক পদ শূন্য হয়ে পড়ে। একারণে কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধসহ নানা বিষয়ে অচলাবস্থা দেখা দেয়।

এরপর মে মাসের শেষের দিকে বগুড়া মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে সংযুক্তিতে থাকা সহকারী পরিচালক ডা. এটিএম নুরুজ্জামানকে বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের উপ-পরিচালক পদে পদায়ন দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ডা. নুরুজ্জামান পরের দিন শজিমেক হাসপাতাল ও ২৮ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আগের তত্ত্বাবধায়কের নিকট থেকে দায়িত্ব বুঝে নিতে যান। আর এখান থেকেই শুরু হয় চরম জটিলতা। আগের উপ-পরিচালক ডা. মশিউল আলম দায়িত্ব হস্তান্তরে অপারগতা জানান।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা জানান, যে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগের উপ-পরিচালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিলো সেখানে উল্লেখ ছিলো সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত থাকবেন, তাকে ওএসডি করা হয়নি। একারণে তার পদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়টি ধরা পড়ে নতুন উপ-পরিচালক পদায়নের পর। তাই উপ-পরিচালক পদে ডা. এটিএম নুরুজ্জামানকে নতুন পদায়ন দেওয়া হলেও তিনি যোগদান করতে পারছেন না।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক পদে কেউ না থাকায় কর্মচারীদের বেতন গত দু’মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এমনকি কর্মচারীদের ঈদ বোনাস পাবেন কিনা তা নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব নিয়ে হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন। শনিবার (২ জুন) তারা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকের (আরএমও) অফিসও ঘেরাও করেন।

এছাড়া হাসপাতালের ওষুধ নিয়েও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, হাসপাতালের বেশির ভাগ ওষুধ সরবরাহ হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান এ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি (ইডিসিএল) থেকে। পাওনা পরিশোধের পরও শুধু মাত্র উপ-পরিচালকের স্বাক্ষর না থাকায় প্রায় ১৬ লাখ টাকার মূল্যের বিভিন্ন ওষুধ বুঝে নেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রী বাবদ প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩৯ লাখ টাকার ওষুধ ও মেডিক্যাল সামগ্রী বুঝে নেওয়া সম্ভব হলেও বাকি টাকার ওষুধ ও সরঞ্জাম এখন পর্যন্ত ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। এই ক্রয় শেষ না হওয়ায় বড় ধরনের জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, কর্মচারীদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক এই জটিলতা দ্রুত নিরসন না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

উপ-পরিচালক না থাকার কারণে বিভিন্ন সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘জটিলতার কারণে নতুন উপ-পরিচালক যোগদান করতে পারছেন না।’

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর