ঝিনাইদহে ৩ জনকে হত্যা, দায় স্বীকার করে গণবাহিনীর হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:৩৬ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৪২
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চরমপন্থি গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় হানিফ (৫০) নামে এক শীর্ষ চরমপন্থি নেতাসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর ওই তিন জনকে হত্যার দাবি করে হোয়াটসঅ্যাপে ‘জাসদ গণবাহিনী’ নামে খুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২১ ফ্রেব্রয়ারি) রাত ৮টার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার রামচন্দ্রপুর ত্রিবেণী শ্মশান খাল এলাকায় এ ঘটানা ঘটে।
ঘটনা স্থল থেকে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হানিফ (৫০) ও হানিফের শ্যলক লিটন হোসেনের (৩৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ তবে এই রির্পোট লেখা পর্যন্ত একজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা চঞ্চল চৌধুরী জানান, রাত ১০টার দিকে রামচন্দ্রপুর মাঠে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। গুলির শব্দ থামার পরে স্থানীয়রা সেচ খালের পাশে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ও জখম হওয়া লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মধ্যে হানিফ নামে এক শীর্ষ চরমপন্থি নেতার লাশ শনাক্ত করে। হানিফের বাড়ি জেলার হরিণাকুণ্ডুতে। তিনি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক শীর্ষ ক্যাডার এবং একাধিক হত্যা মামলার আসামি বলেও জানা গেছে।
চরমপন্থি নেতা কালু পরিচয় দিয়ে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এতদ্বারা ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনাবাসীর উদ্দেশে জানানো যাইতেছে যে, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি নামধারী কুখ্যাত ডাকাত বাহিনীর শীর্ষ নেতা অসংখ্য খুন, গুম, দখলদারি, ডাকাতি, ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হরিণাকুণ্ডু নিবাসী মো. হানিফ তার দুই সহযোগীসহ জাসদ গণবাহিনীর সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। অত্র অঞ্চলের হানিফের সহযোগীদের শুধরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। অন্যথায় আপনাদের একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’
প্রসঙ্গত, হানিফ পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন। সম্প্রতি জেল থেকে বেরিয়েছেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ড উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের আহাদনগর গ্রামে।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাতে তিন জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের নাম হানিফ। তিনি পূর্ব–বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন। অপরজন হানিফের শ্যালক লিটন। তবে বাকি একজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
সারাবাংলা/ইআ