দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:৪৫ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৪৩
ঢাকা: বিদায়ী ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংক বিতরণকৃত মোট ঋণের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। ব্যাংক খাতে ঋণস্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের সামনে খেলাপি ঋণের এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৪২ শতাংশ খেলাপি এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ১৫ শতাংশ খেলাপি ধরা হয়েছে।’
২০২৪ সালে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণ গোপন রাখা ও ঋণ ক্লাসিফিকেশন পদ্ধতিতে পরিবর্তনে খেলাপি ঋণ বেড়েছে।’
এর আগে ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ খেলাপি রেকর্ড ছিল সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে। সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশ। ফলে তিন মাসের ব্যবধানে ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬০ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ কোটি টাকা।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের ঋণস্থিতি ছিল ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। যার মধ্যে খেলাপি হয় ৯ শতাংশ। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছিল ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, ‘আমাদের কাছে যতই নতুন তথ্য আসছে ততই বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। আমরা দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন করতে চাই। যেসব ব্যাংকে একীভূত করার দরকার সেগুলো একীভূত করব, অথবা নতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে এসে পুনর্গঠন করা হবে। তাছাড়া আইনগত সংস্কার হচ্ছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন রিভিউ হচ্ছে। এসব শেষ হলে আমরা ব্যাংক খাত আইনঅনুযায়ী পুনর্গঠন করা হবে।’
সারাবাংলা/জিএস/পিটিএম