দেশে সংকটময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে: খালেদা জিয়া
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:৪৯ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩:৫৩
ঢাকা: দেশে সংকটময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদ জিয়া ।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত দলের বর্ধিত সভায় দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘ দীর্ঘ ১৫ বছর গণতন্ত্রের জন্য, আমার মুক্তির জন্য আপনারা যে নিরন্তর সংগ্রাম করেছেন এবং আমাদের অসংখ্য সহকর্মী প্রাণ দিয়েছেন, জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় সোয়া লাখ মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়ে এখনও আদালতের বারান্দায় ন্যায় বিচারের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন আপনাদের এ ত্যাগ শুধু দল নয়, জাতি চিরকাল স্মরণে রাখবে।’’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘দেশ আজ এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। আপনাদের এবং ছাত্রদের সমন্বিত আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট শাসকেরা বিদায় নিয়েছে। একটা অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা রাষ্ট্র মেরামতের নূন্যতম সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা।’’

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদ জিয়া। ছবি: সারাবাংলা
তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ আজ এক ইতিবাচক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংকীর্ণতা ভুলে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের কাজ করতে হবে।’’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘এখনো ফ্যাসিস্টদের দোসররা ও বাংলাদেশের শত্রুরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য গভীর চক্রান্তে লিপ্ত আছে। ইস্পাত-কঠিন ঐক্যের মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিতে হবে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের সবাইকে এক যোগে কাজ করতে হবে। আসুন আমরা আগামী দিনগুলোতে শহিদ জিয়ার স্বপ্নের আধুনিক, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করি এবং এত ত্যাগের বিনিময়ে প্রাপ্ত এ অর্জনকে সুসংহত এবং ঐক্যকে আরও বেগবান করি।’’
এর আগে, কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে বর্ধিত সভা শুরু হয়। দেশের চলমান পরিস্থিতি, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মিত্র দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা— এই চার এজেন্ডা সামনে রেখে এবারের বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। বর্ধিত সভার প্রথম সেশন দুপুরের মধ্যে শেষ হয়ে দ্বিতীয় সেশন শুরু হবে বিকেলে। এ সেশনটি হবে রুদ্ধদ্বার।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে দলের বর্ধিত সভা ডেকেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই সভার পর ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি’ মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ সাত বছর পর আয়োজিত বর্ধিত সভায় সারা দেশের প্রায় চার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নিচ্ছেন। বর্ধিত সভায় আসা নেতাদের মধ্যে এক ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ডাকা এ বর্ধিত সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক হালচাল ও দলের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আসবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য। নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে শীর্ষ নেতাদের আলোচনায়।
বর্ধিত সভায় দলের নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যরা ছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং যারা মনোনয়নের জন্য প্রাথমিক চিঠি পেয়েছিলেন তারাও উপস্থিত আছেন। সভা মঞ্চে আসন নিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্যরা আছেন প্যান্ডেলের সামনের সারিতে।
সারাবাংলা/এজেড/ইআ