হাতিয়ায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:০৪ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:১২
নোয়াখালী: নোয়াখালীর হাতিয়ায় লঞ্চ ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে তমরদ্দি লঞ্চঘাটে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- লায়লা বেগম, কামরুল ইসলাম, আকলিমা বেগম ও নাফিসা বেগম। আহত অন্যদের নাম জানা যায়নি। গুরুতর আহতদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, তমরুদ্দি লঞ্চ ঘাটের ইজারাদার ছিলেন গোলাম মাওলা কাজল। ৫ আগস্টের পর উপজেলা বিএনপি নেতা আলমগীর ঘাট দখল করেন। পরবর্তীতে ইজারাদার ও আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম মাওলা কাজলের সঙ্গে বিএনপি নেতা আলমগীর সমঝোতা করেন। সেই থেকে আলমগীর ঘাটের দায়িত্ব এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এদিকে, তমরুদ্দি ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি তানভীর হায়দার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঘাটটি দখল নেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন।
সকালে তানভীরের অনুসারীরা ঘাটের দখল নিতে দলবল নিয়ে ঘাটে যায়। এ সময় তানভীরের লোকদেরকে আলমগীরের লোকজন ধাওয়া করলে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘাটের পাশে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসলে তারও আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ, নৌ বাহিনী ও তমরদ্দি কোস্টগার্ড লঞ্চঘাটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয় বিএনপি নেতা আলমগীর জানান, ঘাটের সঙ্গে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। প্রতিদিন ঘাটে উত্তোলিত টাকার চল্লিশ শতাংশ ইজারাদার গোলাম মাওলা কাজল নিয়ে যান। আমি শুধু শ্রমিকদের দেখভাল করি।
প্রতিপক্ষ তানভীর হায়দার জানান, আলমগীরের নানা অপকর্মের দায়ে বিএনপি থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়। ঘাটটি সে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগ নেতার সঙ্গে সমঝোতা করে ভোগ দখল করে আসছে। ঘাট দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।
হাতিয়া থানার অফিসার ইনচাজ (ওসি তদন্ত) খোরশেদ আলম জানান, তমরদ্দি ঘাট নিয়ে তানভীর গ্রুপ ও আলমগীর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
সারাবাংলা/এসআর
নোয়াখালী বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ লঞ্চ ঘাট দখল সারাবাংলা হাতিয়া