‘গ্রাম আদালতকে আরও সক্রিয় করতে হবে’
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:১১
ঢাকা: ‘গ্রাম আদালত’ একটি সরকারি সেবা। গ্রাম আদালতে উন্মুক্ত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। দেশের প্রতিটি গ্রাম আদালতকে আরও সক্রিয় করে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় সম্মেলনের মূল লক্ষ্য অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে স্থানীয় ছোটখাটো বিরোধ মীংমাসা এবং গ্রামীণ জনগণের মাঝে বিচারিক সেবা গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ঢাকা বিভাগীয় প্রকল্প এলাকার ৮৮৬টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতগুলোকে আরও সক্রিয় করতে বিভাগীয় পর্যায়ে দিক-নির্দেশনা প্রদান।
সভায় জানানো হয়, ২০০৯ সালে সরকার স্থানীয় বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পটি চালু করে। প্রকল্পটি শুরুর পর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের ন্যায়বিচার সহজলভ্য করে লাখ লাখ মানুষের জীবনকে পরিবর্তন করেছে।
ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনায় (সার্বিক) কে এম আলী আযমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রায় ৩৭০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগীয় সম্মেলনের বিশেষ অতিথি ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘গ্রাম আদালত বিচারিক সেবার একটি কার্যকর মাধ্যম, যা তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে।’
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) উপ আবাসিক প্রতিনিধি মিস সোনালী দায়ারাত বলেন, ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া উদ্যোগ প্রশংসনীয়। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তৃণমূলের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারীরা স্থানীয়ভাবে সহজে, কম খরচে, দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারছেন। পাশাপাশি গ্রাম আদালত উন্মুক্ত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে।’
বক্তারা প্রকল্প এলাকাসহ দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় গ্রাম আদালতগুলোকে আরও সক্রিয় করতে জেলা উপজেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিয়মিতকরণ ও এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুপারিশ করেন। একইসঙ্গে তারা গ্রাম আদালতে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে চেয়ারম্যানদের অনুকরণীয় উদ্যোগ নেওয়ার উপরও জোর দেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী চেয়ারম্যানরা গ্রাম আদালতের কার্যকরীকরণে গ্রাম আদালতের আর্থিক বিচারিক এখতিয়ার বৃদ্ধি, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনের সকল পর্যায়ে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
উল্লেখ্য, এ প্রকল্প স্থানীয়ভাবে সহজে, কম খরচে, দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং অন্যায়ের প্রতিকার লাভের লক্ষ্যে তৃণমূলের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষত নারী ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির জন্য কাজ করে। প্রকল্পটি বর্তমানে এর ৩য় পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ৬১ জেলার (পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩টি জেলা ব্যতিত) ৪৬৮ উপজেলার ৪ হাজার ৪৫৩ টি ইউনিয়নে গ্রামীণ জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে।
এ ছাড়াও প্রকল্পটি এর ১ম ও ২য় পর্যায়ে দেশের ১ হাজার ৪১২টি ইউনিয়নের ২৫ লাখেরও বেশি স্থানীয় লোকজনকে (১৯ লাখ ৫৩ হাজার নারী) বিচারিক সুবিধা পেতে সাহায্য করেছে।
সারাবাংলা/ইএইচটি/এইচআই