Thursday 27 Feb 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘বাংলাদেশের সংবিধান আমাদের জাতির সংগ্রামের ফসল’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২৩:১৬

৭২-এর সংবিধান ও প্রস্তবিত সংস্কার শীর্ষক আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান আমাদের জাতির সংগ্রামের ফসল। এটি কেবল আইনের একটি দলিল নয়, বরং আমাদের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান পর্যালোচনা ও সংস্কারের আলোচনা নতুন কিছু নয়, তবে প্রশ্ন থেকে যায়-এই পরিবর্তনে কতটা জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিমকোর্ট মিলানায়তনে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ৭২-এর সংবিধান ও প্রস্তবিত সংস্কার শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘যদি সত্যিই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়, তবে সেটিই হবে সংবিধানের প্রকৃত পথ ও পরিবর্তনের স্বার্থকতা। সংবিধান পুনর্লিখন করা ঠিক হবে না। সংবিধান সংশোধন-সংযোজন করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহ প্রত্যক্ষ করেছি। বিশেষ করে, ৫ আগস্টের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, জনগণের আকাঙ্ক্ষা কখনোই উপেক্ষা করা যায় না। ছাত্র সমাজের আন্দোলন আমাদের ইতিহাসের ধারাবাহিকতারই অংশ, যেখানে একটি প্রজন্ম তার ন্যায়সংগত দাবির জন্য রাস্তায় নেমেছে। যেমনটি আমরা দেখেছিলাম ১৯৫২, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১ সালে। এই আন্দোলন কেবল একটি সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়-এটি আমাদের জাতীয় চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল।’

সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, সংবিধানের যেকোনো পরিবর্তন ও সংশোধনে যেন দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন হয়। এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন সংবিধানকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করার সুযোগ না থাকে। সংবিধান পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ যেন কোনো সংকীর্ণ স্বার্থে নেওয়া না হয়। এই সংশোধন ব্যাপক পরামর্শ ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় সংবিধানের যেকোনো পরিবর্তন ও সংশোধন কোন জাতীয় কল্যাণ বয়ে আনবে না।’

বিজ্ঞাপন

৭২ এর সংবিধান ও প্রস্তাবিত সংস্কার শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রস্তাব উপস্থাপন করেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ্যাডভোকেট মো. জাহিদুল বারী।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ এর ২৩ মার্চ ৪৩০ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদ গঠন করা হয়। ওই বছরের ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান বিল গণপরিষদের পূর্ণঙ্গ অধিবেশনে পেশ করা হয় এবং তা ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় ও ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে তা কার্যকর হয়।

এই সংবিধান বাংলাদেশকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, আইনের শাসন, সভা-সমাবেশ ও সংগঠনের ভূমিকা, ধর্মীয় ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি প্রজাতন্ত্র হিসাবে ঘোষণা করেছে। ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৭ বার সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন করা হয়েছে। কিছু সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে এবং কিছু সামরিক আইন ঘোষণার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনীর ফলে সরকার ব্যবস্থাও বেশ কয়েকবার পরিবর্তন হয়েছে। সংশোধনীর অনেকগুলো যেমন- ৮ম, ৫ম, ৭ম ও ষোড়ষ সংশোধনী আমাদের উচ্চ আদালত কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে। অতি সম্প্রতি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিট পিটিশন হাইকোর্ট বিভাগ নিষ্পত্তি করেছেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের অনুচ্ছেদ এবং তফসিলসহ ৫৪টি ক্ষেত্রে সংশোধন করা হয়।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/পিটিএম

৭২ সাল ড. কামাল হোসেন সংবিধান সংশোধন

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর