পানির দাবিতে ওয়াসা ভবন ঘেরাও, মিলল আশ্বাস
১১ মার্চ ২০২৫ ১৬:২১ | আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৫ ১৮:৫৫
চট্টগ্রাম ব্যুরো: নিরবিচ্ছিন্ন পানির দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর ওয়াসা ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে একদল গ্রাহক। এ সময় তারা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরবিচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।
এ সময় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার পাশা তাদের মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাতের মধ্যে পানি সরবরাহ চালু করার আশ্বাস দেন।
এদিন বেলা ১২টার দিকে নগরীর দামপাড়া এলাকায় ওয়াসা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন গ্রাহকরা। এ সময় তারা পানির দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
এর আগে শনিবার (৮ মার্চ) পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ভূগর্ভস্থ কেবল স্থাপনের কাজ চলার সময় নগরীর পাহাড়তলী সাগরিকা এলাকায় ওয়াসার পাইপ লাইন কাটা পড়ে। ফলে নগরীয় আগ্রাবাদ, হালিশহর, সিডিএ, দেওয়ানহাট ও কদমতলীর পুরো এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে।
এদিকে ওয়াসা ভবন ঘেরাও কর্মসূচিতে আসা বিক্ষোভকারীদের একজন আবু তাহের। নগরীর ফকিরহাট এলাকায় তার বাড়ি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি একজন ভোক্তা। কিন্তু আমাকে পানি না দিয়ে বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাকে উনারা আরও বলেছে, আমাকে নাকি পানি দেয়ার জন্য তার কন্টাক্ট নেয়নি। তারা শুধু টাকা নেবে। পানি দেওয়া তাদের কাজ না। আমি হচ্ছি আবাসিক গ্রাহক। আমাকে কমার্শিয়াল করে দিয়েছে।’
‘আবাসিকে এক ইউনিট পানির দাম ১৩ টাকা আর কমার্শিয়ালে ৩১ টাকা। তিনদিন ধরে আমি ওয়াসার কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমাকে তারা নাজেহাল করেছে। কন্টাক্ট নিলেও গত একমাস ধরে আমাকে পানি দেয়া হচ্ছে না।’
এস এম সাইফুল আলম আরেক বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই প্রশাসন কাজ করুক। আমরা সহযোগীতা করব। এখানে সমন্বয় নেই। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বলেছেন সমন্বয় করার জন্য। সিটি গভর্মেন্ট করার জন্য। ওয়াসা ও গ্যাস কোম্পানি রাস্তা খুঁড়ে লাইন কাটে। পিডিবি লাইন বসায়। সিটি করপোরেশন ড্রেন তৈরি করে। কারো কোনো সমন্বয় নেই। এখানে যে অরাজকতা হচ্ছে, তাতে নগরবাসী কষ্ট পাচ্ছে।’
‘এ রমজান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন পানি দেয়ার কথা বলেছে। কিন্তু সেটা হয়নি। আমরা ওয়াসার এমডির সঙ্গে কথা বলেছি। এ সংকট কখন শেষ হবে সেটা জিজ্ঞেস করেছি। তিনি আমাদের আজ রাত থেকে পানি দেবেন বলে আশ্বস্থ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যিনি আছেন তিনি কি করছেন। চট্টগ্রামের মানুষ পানি পাচ্ছে না। হাহাকার চলছে। পানির লাইন কাটা যাচ্ছে। এ রমজান মাসে মানুষের মসজিদে নামাজ আদায় করতে কষ্ট হচ্ছে।’
আরেকজন বিক্ষোভকারী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সারা চট্টগ্রাম পানি নেই। পানির জন্য হাহাকার চলছে। এখানে ওখানে সমস্যা। আমরা একটু আগে এমডি বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছি। জনগণ যদি পানিই না পায় তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে লাভ কি? এগুলো তো অপচয় হচ্ছে। মানুষের তো লাভ হচ্ছে না।’
পানির সংকট না কি পানি দেওয়া হচ্ছে না? এমন প্রশ্নে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোজার চার-পাঁচদিন আগে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের ঠিকাদার দ্বারা আমাদের প্রধান সঞ্চালক লাইন ক্ষতিগ্রিস্থ হয়েছে। সেটা ছিল কর্ণফুলী ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্টের প্ল্যান -১ এর ট্রান্সমিশন লাইন। এগুলো কিন্তু সহজে ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। সেগুলোর গ্যারান্টি প্রায় ১০০ বছরের। এক্সপার্ট লোক দিয়ে তারা প্রকল্পের কাজ করেনি। তারা পাইলিং করতে গিয়ে পাইপের একপাশে ক্ষতি করেছে।’
‘যেহেতু ট্রান্সমিশন লাইন, তাই একটি প্ল্যান্টের পানি সরবরাহ বন্ধ ছিল। প্রায়ই ৭০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে এ প্ল্যান্টের পানির বিস্তৃতি ছিল। সেটা মেরামত করে ওই ৭০০ কিলোমিটার পানির সরবরাহ দেওয়া একটু সময় লেগেছে।’
তিনি বলেন, ‘ওই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পর শনিবার (৮ মার্চ) আমাদের হালিশহরের আরেকটি ট্রান্সমিশন লাইন ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পাওয়ার গ্রেড কোম্পানি তাদের কাজ করার সময় কেবল টানতে গিয়ে এ ক্ষতি করে। সেটা মেরামতের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ রাতেই মেরামতের কাজ শেষ করে পানি সরবরাহ চালু করব।’
সারাবাংলা/আইসি/এনজে