Monday 31 Mar 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মাংসের দাম বেড়েছে, শাকসবজিসহ অন্যান্য পণ্য স্থিতিশীল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৮ মার্চ ২০২৫ ১০:৪৩ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৫ ১৩:৫৮

ঈদের আগমুহুর্তে স্থিতিশীল শাকসবজির দাম। ছবি:সারাবাংলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ঈদুল ফিতরের আগমুহুর্তে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে সব ধরনের মাংসের দাম বেড়েছে। তবে শাকসবজিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ ব্যাংক কলোনি কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকানে নিত্যপণ্যের দর যাচাই করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারে বৃহস্পতিবার ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। দেশি মুরগি গত সপ্তাহে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ সপ্তাহের শেষে সেটা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ টাকায়। সোনালী ‍মুরগি ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩২০ টাকা। এছাড়া পাকিস্তানি কক মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মুরগির বাজার। ছবি: সারাবাংলা

 

আগ্রাবাদ ব্যাংক কলোনি বাজারে হাড়বিহীন দেশি গরুর মাংস প্রতি কেজি ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মায়ানমারের গরুর হাড়বিহীন মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। আবার কাজির দেউড়ি বাজারে হাড়বিহীন গরুর মাংস এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি গরুর হাড়সহ মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং মায়ানমারের গরুর মাংস ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, উভয় মাংসের দাম কেজিতে অন্তত ৫০ টাকা বেড়েছে। আর খাসির মাংস ১১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

মাংসের বাজার। ছবি: সারাবাংলা

আগ্রাবাদ ব্যাংক কলোনি বাজারের মুরগি দোকানি মনির হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঈদের আগে মুরগির সাপ্লাই কমে যায়। খামার থেকে সরাসরি বিক্রির কারণে আমরা কম পাই। আবার এ সময় গোশতের চাহিদা বাড়ে। এজন্য দামে সামান্য হেরফের হয়।’

বিজ্ঞাপন

 

গরুর মাংসের বিক্রেতা মো. ইসমাইল সারাবাংলাকে বলেন, ‘গরুর মাংসের দাম বাড়েনি। ৫০-১০০ টাকা এগুলো কোনো সপ্তাহে বাড়ে, কোনো সপ্তাহে কমে। ঈদ উপলক্ষে পাড়ায়-পাড়ায় গরু জবাই করে গোশত বিক্রি হচ্ছে। খোঁজ নিলে জানবেন, তারা এক হাজার টাকার নিচে গরুর গোশত বিক্রি করতে পারছে কী না।’

বাজারে ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০ টাকা, সাদা ডিম ১২০ টাকা আর দেশি মুরগির ডিম ২১০ টাকা ও হাঁসের ডিম ২৪৫ টাকা বিক্রি হয়েছে।

শাকসবজির মধ্যে চাহিদা কমে আসা ফুলকপি-বাঁধাকপি, বেগুন-মূলাসহ বিভিন্ন সবজির দাম ৫০-৬০ টাকার মধ্যে আছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে কাঁকরোল প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, পটল-ঢেঁড়স ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা ১০০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পেঁয়াজকলি ৩০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবু আকারভেদে ১২০ থেকে ২২০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ধনেপাতা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। লাল শাক, লাউ শাক, কলমি শাকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজার। ছবি: সারাবাংলা

মাছের মধ্যে রুই মাছ ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা মাছ ৩০০ থেকে ৪৪০ টাকা, কালিবাউশ ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ছোট-বড় চিংড়ি মাছ ৮০০ থেকে ১৬০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা, চাষের ও দেশি কৈ মাছ ২০০ থেকে ১০০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, চাষের ও দেশি শিং মাছ ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা, টেংরা মাছ ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা, মেনি মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিতল মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা, সরপুঁটি মাছ ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ ৪৫০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদের বন্ধে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের দাম বাড়তে পারে।

মুদিপণ্যের মধ্যে ছোট মসুর ডাল ১৩৫ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১১০ টাকা, বুটের ডাল ১২০ টাকা, মাষকলাইয়ের ডাল ১৯০ টাকা, ডাবলি ৬০ টাকা, ছোলা ১২০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১২৫ টাকা, খোলা চিনি ১২০ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৫০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল ৮৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক লিটার বোতল ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, দুই লিটার বোতল ৩৪৮ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা, পাম সুপার ১৬০ টাকা, সরিষার তেল খোলা বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায়।

বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চায়না রসুন প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা এবং চায়না আদা ২০০ থেকে ২২০ টাকা, নতুন ভারতীয় আদা ১২০ দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের দর আগের মতোই আছে। বাজারে ২৫ কেজির বস্তা নাজিরশাইল সিদ্ধ (মজুমদার ব্র্যান্ড) ২২০০ টাকা, ভারতীয় নাজিরশাইল (হোয়াইট গোল্ড) ২০৫০ টাকা, জিরাশাইল সিদ্ধ ৫০ কেজির বস্তা ৪২০০ থেকে ৪২৫০ টাকা, ২৫ কেজির বস্তা কাটারিভোগ আতপ ২১৫০ থেকে ২৩০০ টাকা এবং সাধারণ মানের পাইজাম আতপ ১৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কাটারিভোগ সিদ্ধ ২৫ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২৪০০ টাকায়।

সারাবাংলা/আরডি/এসডব্লিউ

চট্টগ্রাম বাজারদর শুক্রবারের বাজারদর

বিজ্ঞাপন

এলো খুশির ঈদ
৩১ মার্চ ২০২৫ ০৭:০০

আরো

সম্পর্কিত খবর