ঈদের দিনে কারাগারে থাকে যেসব খাবার
৩১ মার্চ ২০২৫ ১৪:৫৬ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৫ ২০:৪৬
ঢাকা: ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ের পর এবারই প্রথম ঈদ উযযাপিত হচ্ছে। সারা দেশের ৬৮টি কারাগারে এখন মোট বন্দীর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৭২৩ জন। এরমধ্যে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর সংখ্যা আট হাজার ১০০ জন।
জানা গেছে, মোট বন্দি মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৩১ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ডিভিশন পেয়েছেন ১০৮ জন, যাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ২৯ জন, সাবেক সংসদ সদস্য ২২ জন, সরকারি কর্মকর্তা ৪৪ জন এবং অন্যান্য পেশার ১৩ জন। ডিভিশন পাননি ভিআইপি হিসেবে কারাগারে থাকা ২৩ জন।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, যেকোনো ঈদেই বন্দিদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়ে থাকে। অন্যান্য দিনের তুলনায় খাবারে বৈচিত্র আনা হয়ে থাকে। এবার ঈদেও সাধারণ বন্দিদের মতোই কারাগারে থাকা ভিআইপিসহ (বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের একই ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। সকাল ৭টায় ঈদের নামাজ শেষে সকালের খাবারে দেওয়া হয়েছে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি। দুপুর ১২টায় খাবার দেওয়া হয়েছে। খাবারের মধ্যে পোলাও বা খিচুড়ি, মুরগির রোস্ট, গরু ও খাসির মাংস, সালাদ, মিষ্টি ও পান। আর রাতে দেওয়া হবে ভাত, আলুর দম ও ডিম।
অন্যদিকে সারা বছর সাধারণ বন্দিদের সকালে দেওয়া হয় হালুয়া, রুটি ও ডিম। দুপুরের খাবারের তালিকায় থাকে ভাত, ডাল, সবজি। রাতে খাবার দেওয়া হয় ভাত, ডাল, ডিম অথবা মাছ অথবা গরুর মাংস। আর ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের খাবার তাদের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা রান্নার ব্যবস্থা করা হয়।
কারা অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক জান্নাত-উল ফরহাদ সারাবাংলাকে বলেন, উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি বন্দিদের জন্য স্বজনদের আনা খাবারও তাদের খেতে দেওয়া হয়। ঈদের পরদিন যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কারাগারের ভেতরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারবে কারাগারগুলো।
তিনি আরও বলেন, সকল কারাগারে একই নিয়ম ফলো করা হয়ে থাকে। বন্দিদের পুরস্কারও দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া বন্দিরা নিয়ম অনুযায়ী তাদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারবেন।
দিনাজপুর কারাগার থেকে আব্দুল কাদের নামে একজন কারারক্ষী সারাবাংলাকে বলেন, ভেতরে মাঠে সামিয়ানা লাগিয়ে প্যান্ডেল করে সকল বন্দিদের নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। এরপর পায়েস, সেমাই ও মুড়ি বিতরণ করা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়। পোলাওয়ের সাথে সালাত, মুরগির রোস্ট এবং গরু-খাশি যেকোন এক প্রকার মাংস দেওয়া হয়। সঙ্গে মিষ্টি ও পানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ঈদের দিন যাতে বন্দিরা একটু আনন্দে কাটাতে পারে সে জন্য সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারাগারে থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু করার নেই। তবে আজকের আয়োজনে বন্দীরা খুশি বলেও জানান তিনি।
সারাবাংলা/ইউজে/ইআ