সাংবাদিককে তুলে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে নির্যাতন
৩ এপ্রিল ২০২৫ ০৩:৩৫ | আপডেট: ৩ এপ্রিল ২০২৫ ১২:৫৬
নীলফামারী: জেলার ডোমার উপজেলায় আব্দুর রাজ্জাক রাজা নামে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে গিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে এলাকাবাসী ও পুলিশের সহযোগিতায় ওই সাংবাদিককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ডোমার পৌরসভার মডেল স্কুল পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দলবদ্ধভাবে নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। নির্যাতনের শিকার এই সাংবাদিক ডোমার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মডেল স্কুল পাড়ার মশিয়ার রহমানের ছেলে রাসেল একই এলাকার এক নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে উভয়ের সংসারে অশান্তি দেখা দেয়। এ নিয়ে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মশিয়ার ও তার ছেলেরা তাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকে। কিন্তু অসুস্থ সাংবাদিক রাজা যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তারা জোড়পূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।
তিনি জানান, এক পর্যায়ে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত নারীর পিতা তরিকুল ও মশিয়ারের পরিবারের লোকজন তাকে খুঁটিতে বেঁধে ফেলে। এর পর মুখ বেঁধে নির্যাতন শুরু করে। এ সময় সাংবাদিকের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা কেড়ে নেয় তারা। টানা দুই ঘণ্টা নির্যাতনের ফলে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়ে সাংবাদিক রাজা। ঘটনা জানতে পেরে এলাকাবাসী পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে সাংবাদিক রাজাকে রক্ষা করতে গিয়ে স্বাধীন নামের এক যুবক হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে স্বাধীন নামের রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ডোমার ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সারাবাংলা/পিটিএম