Friday 04 Apr 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঋণের শর্ত পর্যালোচনায় শনিবার ঢাকায় আসছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ এপ্রিল ২০২৫ ১৭:০৪ | আপডেট: ৩ এপ্রিল ২০২৫ ২০:১১

ঢাকা: চলমান ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পালনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী শনিবার (৫ এপ্রিল) ঢাকায় আসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর একটি প্রতিনিধিদল। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকায় আইএমএফ এর বড় কোনো দলের এটি দ্বিতীয় সফর। ঢাকায় পৌঁছানোর পর রোববার (৬ এপ্রিল) থেকেই সরকারের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে শুরু হবে টানা বৈঠক। আসন্ন সফরে অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের। শেষ দিন ১৭ এপ্রিল বৈঠক করবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। বৈঠক শেষে ওইদিনই প্রেস ব্রিফিং করবে তারা।

বিজ্ঞাপন

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর তিনটি কিস্তির অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। আইএমএফের কাছ থেকে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ছাড় হয় ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। একই বছরের ডিসেম্বরে ছাড় করা হয় দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। সর্বশেষ তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার ছাড় করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুনে। তিন কিস্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে। ঋণের অর্থছাড় বাকি আছে ২৩৯ কোটি ডলার। বিপত্তি দেখা দিয়েছে চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে। তবে আগামী জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণের দুই কিস্তির অর্থ একসঙ্গে ছাড় করতে আসন্ন বৈঠকে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ জোর দেবে আইএমএফ প্রতিনিধিদল। এগুলো হচ্ছে- ভর্তুকি কমানো, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো, মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়তি রাজস্ব আদায় ও এনবিআরের রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করা ইত্যাদি।

এগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব শর্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলে আইএমএফকে জানানো হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করার পদক্ষেপ ছাড়া বাকিগুলোর বিষয়ে তেমন অগ্রগতি নেই।

আর মুদ্রা বিনিময় হারের ক্ষেত্রে ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর ফলে ডলারের দাম হঠাৎ করে খুব বেশি বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ পদ্ধতিতে ডলারের দাম ১২২ টাকায় স্থিতিশীল আছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টদের মতে, অবশিষ্ট শর্তগুলো পূরণে বাংলাদেশ ও আইএমএফ যদি নিজ নিজ অবস্থানে অনমনীয় থাকে, তাহলে আর কোনো কিস্তি না-ও মিলতে পারে। তখন বাংলাদেশের জন্য দেখা যাবে নতুন জটিলতা। অর্থাৎ অন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোও তখন বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে রক্ষণশীল হয়ে যেতে পারে।

এদিকে সম্প্রতি অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইআরএফের সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজেট সহায়তার জন্যই আইএমএফ ঋণ লাগবে।

আগামী জুনের মধ্যে বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় হার বাস্তবায়নের বিষয়ে অপর এক প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি আরও কত দিন থাকে, দেখতে হবে। হঠাৎ বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো হয়ে গেলে তো বিপদ বাড়বে।’

আইএমএফ এর শর্তের প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। তবে ভরসা পাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। ভর্তুকি কমানোর অংশ হিসেবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে যেতে পারে। তাই সরকারের ভেবেচিন্তেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। অন্তত ৫৭ হাজার কোটি টাকা বাড়তি আদায় করতে হবে, কিন্তু রাজস্ব আদায় বাড়াতে উদ্যোগ কম। এছাড়া আইএমএফের শর্ত মানতে কর অব্যাহতি কমানো হবে বলে বলা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা কিন্তু কর অব্যাহতির বিরুদ্ধে এককাট্টা, এটাও সরকারকে মাথায় রাখতে হবে।

সারাবাংলা/আরএস

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর