এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্পের কাজ বন্ধে পান্থকুঞ্জে অবস্থান কর্মসূচির ১১১ দিন
৩ এপ্রিল ২০২৫ ২২:০৯ | আপডেট: ৪ এপ্রিল ২০২৫ ১২:১৪
রাজধানীর পান্থকুঞ্জ পার্কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্পের কাজ বন্ধের দাবিতে চলমান অবস্থান কর্মসূচির ১১১তম দিন অতিবাহিত – ছবি : সারাবাংলা
ঢাকা: প্রকৃতি রক্ষায় রাজধানীর পান্থকুঞ্জ পার্কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্পের কাজ বন্ধে পান্থকুঞ্জ পার্কে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন পরিবেশকর্মীরা। একই সঙ্গে এফডিসি থেকে পলাশী এলাকায় এ ধরনের প্রাণবিনাশী ও জনবিরোধী প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করারও দাবি জানাচ্ছেন তারা।
বৃহম্পতিবার (৩ এপ্রিল) ‘বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন’ এর উদ্যোগে চলমান এ কর্মসূচির ১১১তম দিন অতিবাহিত হলো।
এদিন বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের চতুর্থ দিনেও রাজধানীর কারওয়ান বাজারসংলগ্ন এই পার্কে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা।
তারা বলছেন, প্রকৃতি বিধ্বংসী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প থেকে পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল জলাশয় রক্ষায় তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা এবং যতক্ষণ না দাবি মানা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই স্থান ছাড়বেন না।
পান্থকুঞ্জ পার্কে অবস্থান কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন’। কথা হলো সংগঠনটির সমন্বয়ক আমিরুল রাজিবের সঙ্গে। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঈদের দিনও আমরা ২৪ ঘণ্টা আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে গেছি। এর আগে তীব্র শীতেও এই পার্কেই আমরা ছিলাম। আবার এখন তাপপ্রবাহ যাচ্ছে। প্রচন্ড তাপে আমাদের তাঁবু গলে যাচ্ছে। সন্ধ্যা হলে মশার কামড়। আর ইঁদুরের উৎপাত। এসবের মধ্যেও আমরা অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। ’

‘বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন’ এর সমন্বয়ক আমিরুল রাজিব – ছবি : সারাবাংলা
আমিরুল রাজিব বলেন, ‘১১১ অর্থাৎ প্রায় ৪ মাস সময় ধরে আমরা আন্দোলন করছি, সরকারের উচিত ছিল একটা পর্যালোচনার মধ্যে যাওয়া। কিন্তু এত দিনেও সরকারের টনক নড়েনি। তারা আমাদের কোনো আশার বাণীই শুনাচ্ছেন না। কোনো ধরণের পদক্ষেপও নিচ্ছেন না।’’
তিনি জানান, ‘‘অন্তর্বর্তী সরকারের তিনজন উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গে বসে পান্থকুঞ্জ পার্ক রক্ষায় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ অবস্থানের ১১১তম দিন পেরোলেও সরকারের পক্ষ থেকে বসার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’’
পরিবেশকর্মীরা জানান, পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিলে চলমান নির্মাণকাজের কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক প্রকল্পের কারণে হাতিরঝিল ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবহন ব্যবস্থাও ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। তা ছাড়া ঢাকাকে বাইপাস না করে, বরং ঢাকার একেবারে মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের সুযোগ করে দিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জালের মতো নতুন নতুন র্যাম্প যুক্ত করে রাজধানীতে যানজট বাড়ানোর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্রকল্প।
বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল ধ্বংস করে প্রকৃতিবিধ্বংসী ও জনবিরোধী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত সংযোগ সড়ক বাতিলের দাবিতে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ সাল থেকে তারা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এ পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি সমাবেশ হয়েছে এবং ৫০টির বেশি সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১০ হাজার মানুষ গণস্বাক্ষর দিয়ে আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন।
সারাবাংলা/এফএন/আরএস