Sunday 06 Apr 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাংলাদেশের সঙ্গে জনগণকেন্দ্রিক ও গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত: নরেন্দ্র মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ এপ্রিল ২০২৫ ১৮:৪৩ | আপডেট: ৪ এপ্রিল ২০২৫ ২১:১৬

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জনগণকেন্দ্রিক ও গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত।

তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ভারত সবসময় সহযোগিতা করবে।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের শেষ দিন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি এসব কথা বলেন। ড. ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ও ভারতের এই দুই শীর্ষ নেতার এটি প্রথম বৈঠক।

বৈঠক শেষে নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিক্রম মিশ্রি তার মন্ত্রণালয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে গণমাধ্যমে অবহিত করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘বৈঠকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ভারত সবসময় সহযোগিতা করবে। ভারত দুই দেশের জনগণকেন্দ্রীক সম্পর্ক চায় ও বিশ্বাস করে পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে দুই দেশের জনগণ।’

বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত। বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশটির সরকারপ্রধানকে অনুরোধ করেছেন তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কলুষিত করতে পারে— এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় ৭ রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্স নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ইউনূস। ভারতের রাজনীতিবিদরা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের সময়ে সেদিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

বিজ্ঞাপন

সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের জাতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জানিয়েছে, ড. মুহম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের স্থায়িত্ব ছিল ৪০ মিনিট।

উল্লেখ্য, এটি নির্ধারিত কোনো বৈঠক ছিল না; অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদি কিংবা ড. মুহম্মদ ইউনূস— কারো সফরসূচিতেই এ বৈঠকের উল্লেখ ছিল না। দুই দেশের কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টার ফলেই সম্ভব হয়েছে দুই নেতার সাক্ষাৎ। এ বৈঠককে ঘিরে সবার মধ্যে একটা কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এদিকে ড. মুহম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় বর্তমানে সেখানে আশ্রিত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যার্পণ, তাকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া, সীমান্তে হত্যা বন্ধ করা, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন ও তিস্তা চুক্তি সইসহ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সংক্রান্ত ইস্যু উত্থাপন করেছেন ইউনূস।

এসব ইস্যুর মধ্যে শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পণের ব্যাপারটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিক্ষার্থী-জনতার ব্যাপক অভ্যুত্থানের মুখে টিকতে না পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে নয়াদিল্লির একটি সুরক্ষিত এলাকায় আছেন তিনি।

তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য গত ছয় মাসে কূটনৈতিক পন্থায় একাধিকবার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সেসব সফল হয়নি।

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারপ্রধানের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে বিক্রম মিশ্রি স্বীকার করেন যে এ ইস্যুতে তাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে, তবে কী কথা হয়েছে— সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইউজে/এমপি

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নরেন্দ্র মোদি বৈঠক

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর