মাথায় গুলি নিয়েই মারা গেলেন জুলাই যোদ্ধা হৃদয়
৫ এপ্রিল ২০২৫ ০৩:৪৩
পটুয়াখালী: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত মো. আশিকুর রহমান হৃদয় (১৭) মারা গেছেন।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থা তার মৃত্যু হয়। নিহত হৃদয় উপজেলার পশ্চিম যৌতা গ্রামের রিকশাচালক আনসার হাওলাদারের ছেলে।
হৃদয়ের পরিবার জানায়, সে ঢাকাতে শ্রমিকের কাজ করত। জুলাই বিপ্লবে ঢাকার রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। হৃদয়ের মাথায় তিনটি গুলি লাগে। ওই সময় শেখ হাসিনা সরকারের ভয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে চিকিৎসা নেয়। ৫ আগস্ট হাসিনার পতনের পর ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার মাথা থেকে দু’টি গুলি বের করতে পারলেও আশঙ্কাজনক হওয়ায় আরেকটি বের করতে পারেনি। ফলে পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেনি হৃদয়।
আরও জানা যায়, হৃদয় এর পর থেকে বিভিন্ন সময় অস্থির হয়ে পড়তেন। প্রচণ্ড জ্বর উঠত। গত বুধবার (২ মার্চ) হৃদয় অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বিকেল ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
হৃদয়ের বাবা আনসার হাওলাদার বলেন, ‘ছেলের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। নিজের রিকশা ও একটা গরু বিক্রির টাকা দিয়ে যতটুক পেরেছি ততটুক চেষ্টা করেছি। মাথার তিনটা গুলির দুইটা বের করেছেন ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা। আরেকটা গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। বিদেশ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে আমার ছেলে বেঁচে যেত।’
নিহত হৃদয়ের বড় ভাই মো. সোহাগ ইসলাম আনিস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল হৃদয়। ওর মাথার ভেতরে একটা গুলি ছিল। ওটা বের করতে পারেনি চিকিৎসকরা। এতে ওর প্রচুর ব্যাথা হতো, জ্বর উঠতো। কেউ আমার ভাইয়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেনি। উন্নত চিকিৎসার অভাবেই আমার ভাই মারা গেছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আ. রউফ বলেন, ‘বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় হৃদয়কে। আশঙ্কাজনক হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডেকিল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি। পরিবার যথা সময়ে বরিশাল নিয়ে যেতে পারেনি। এখানেই বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’
সারাবাংলা/পিটিএম