জাজিরায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১৫
৫ এপ্রিল ২০২৫ ১৭:০৪ | আপডেট: ৫ এপ্রিল ২০২৫ ২০:২৯
শরীয়তপুর: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের জাজিরায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের দূর্বাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ জুন জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বেপারী এবং উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য আব্দুল জলিল মাদবর চেয়ারম্যান নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জয়ী হন কুদ্দুস বেপারী। সেই থেকেই চেয়ারম্যান কুদ্দুস ও জলিলের মধ্যে এলাকায় নির্বাচন ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মাঝে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আরও জানা যায়, তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে বিলাসপুর ইউনিয়নের দূর্বাডাঙ্গা এলাকায় কুদ্দুসের সমর্থক সালাউদ্দিন মাস্টার ও জলিল সমর্থক ছালেক মাদবরের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।
আহতদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে মারুফ ও হাসান নামে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আহতরা হলেন— কাজিয়ারচর দাইমদ্দিন খলিফা কান্দির বাসিন্দা কালাম খানের ছেলে মারুফ (২৫), জামাল মাদবর কান্দি এলাকার বাসিন্দা হযরত আলীর মেয়ে জোৎস্না (২৫), মুন্সি কান্দি এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৫৫), মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার বেজগাও এলাকার বাসিন্দা রাজ্জাক মাদবরের স্ত্রী বিনা (৪৫), বিলাসপুরের আহসান উল্লাহ মুন্সীর কান্দির বাসিন্দা সেকান্দার মুন্সীর ছেলে হাসান মুন্সী (৫০), দাইমদ্দিন খলিফা কান্দি গ্রামের বাসিন্দা হারুন খলিফার ছেলে সজিব (২২), বুধাইরহাট মুলাই বেপারীর কান্দি এলাকার বাসিন্দা রহমান খানের ছেলে নাইম (১৯), একই এলাকার বাসিন্দা মজিবর মাদবরের ছেলে সাকিব (১৯), মামুন খার ছেলে কামাল (১৯), পেকান সরদারের ছেলে বিজয় (১৯), জহুরদ্দিন বেপারীর ছেলে রেজাউল বেপারী (১৯), কাজিয়ারচর আলীমউদ্দিন মাদবর কান্দি এলাকার বাসিন্দা সামসুদ্দিন মাদবরের ছেলে শহরআলী (৫০), আহসানউল্লাহ মুন্সী কান্দি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী খানের ছেলে রিফাত (১৯), নাওডোবা ইউনিয়নের হাজী জৈনদ্দিন মাদবর কান্দির বাসিন্দা মহিজদ্দিন করালের ছেলে আবু আলেম (৪২) ও বিলাসপুরের মুলাই বেপারী কান্দির বাসিন্দা দিনইসলাম বোপরীর ছেলে শুভ বেপারী (১৯)।
এদিকে, দুপক্ষের সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যায়, একটি খোলা মাঠে উভয় পক্ষের লোক মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। অনেককে হাতে বালতি নিয়ে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। উভয় পক্ষই বালতি থেকে হাতবোমা নিক্ষেপ করছে। সেগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়ার সৃষ্টি করছে।
এ ব্যাপারে কুদ্দুস বেপারী ও জলিল মাদবরের বক্তব্যের জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুলাল আখন্দ বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু্’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সারাবাংলা/এইচআই