ছাগল খোঁয়াড়ে দেওয়ায় সংঘর্ষ, ইউপি সদস্য গ্রেফতার
৫ এপ্রিল ২০২৫ ২০:২৭
পঞ্চগড়: জেলার দেবীগঞ্জে ছাগল খোঁয়াড়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন পাঁচ জন। এ ঘটনায় রাব্বি হোসেন নামে এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৫ এপ্রিল) গ্রেফতার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রাব্বি শালডাঙা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
এর আগে, শুক্রবার (৪ এপ্রিল) উপজেলার শালডাঙা ইউনিয়নের অমরখানা গ্রামে মরিচখেত নষ্ট অভিযোগে ছাগল খোঁয়াড়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
মারপিটে একই এলাকার কৃষক লিপন ইসলাম, তার দুই ভাই স্বপন ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় গতরাতে ভুক্তভোগীর ভাই লিটন ইসলাম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই মামলার প্রধান আসামি রাব্বি হোসেনকে গ্রেফতার করে। রাব্বির দুই ভাই বাবলু ইসলাম ও জুয়েল রানাও একই মামলায় আসামি। তারা একই ইউনিয়নের অমরখানা গ্রামের নাছিরুল ইসলামের পুত্র।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল সকাল ১১ টার দিকে লিপন ইসলামের মরিচখেত খায় রাব্বিদের ছাগল। খেত নষ্ট করার কারণে ২টি ছাগল খোঁয়াড়ে দিয়ে আসে লিপন। এতে ক্ষিপ্ত হয় রাব্বিরা। তারা খোঁয়াড় থেকে ছাগল ছাড়িয়ে এনে পুনরায় বেশ কয়েকটি ছাগল লিপনের খেতে ছেড়ে দিয়ে ওঁৎ পেতে থাকে। পরে লিপন পুনরায় ছাগল ধরতে গেলে তার ওপর আক্রমণ চালায় রাব্বি ও তার লোকজন। এ সময় লিপনের অন্য দুই ভাই ঘটনাস্থলে গেলে তারাও আক্রমণের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় লিপন ও তার দুই ভাইকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া একই ঘটনায় রাব্বির দুই ভাই জুয়েল হক ও বাবলু হক আহত হয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে তারাও বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এ দিকে গ্রেফতার ইউপি সদস্য রাব্বির স্ত্রী সাবিনা আক্তার বলেন, ঘটনার সময় আমার স্বামী টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের বটতলী এলাকার খালেক ডাক্তারের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন। মারামারির ঘটনায় তিনি কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। তাকে মিথ্যা অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবু নেমান বলেন, রোগীদের মাথায় একাধিক জখম ছিল, সেজন্য উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, মারামারির ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।
সারাবাংলা/এইচআই