Sunday 27 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাপা ও ক্যাপস’র গবেষণা / ৯ বছরে ৩১ দিন নির্মল বায়ুতে নিঃশ্বাস নিয়েছে ঢাকাবাসী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২২ এপ্রিল ২০২৫ ২২:০১
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: গত ৯ বছরের ঢাকার মানুষ মাত্র ৩১ দিন নির্মল বায়ুতে নিঃশ্বাস নিতে পেরেছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এর গবেষণায়। এ অবস্থায় বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর ৫ হাজার ২৫৮ শিশুসহ এক লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জনের অকালমৃত্যু ঘটেছে বলেও প্রতিবেদনে জানিয়েছে তারা।

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠন দুটি।

মূল প্রবন্ধে ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ‘ঢাকায় গত ৯ বছরের ৩ হাজার ১১৪ দিন এর মধ্যে ঢাকার মানুষ মাত্র ৩১ দিন (১ শতাংশ) নির্মল বা ভালো বায়ুতে নিঃশ্বাস নিতে পেরেছেন। তবে এক্ষত্রে ৬২৪ দিন (২০ শতাংশ) মাঝারি বায়ু, ৮৭৮ দিন (২৮ শতাংশ) সংবেদনশীল বায়ু, ৮৫৩ দিন (২৭ শতাংশ) অস্বাস্থ্যকর, ৬৩৫ দিন (২১ শতাংশ) খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৯৩ দিন (৩ শতাংশ) দুর্যোগপূর্ণ বায়ু গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের সবচেয়ে ভালো ও সবচেয়ে খারাপ বায়ুমানের দিনসংখ্যা হলো যথাক্রমে ২ ও ৩৫ দিন।’

বিজ্ঞাপন

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, ‘বায়ুদূষণ ও শব্দ দূষণ এত বেশি মাত্রায় দাঁড়িয়েছে যে ঢাকা শহরে এখন বসবাস করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দিন দিন এই দূষণের তীব্রতা বাড়ছে। এখনই এই দূষণ বন্ধ করতে না পারলে ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসবে।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে নয় দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- দেশের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় পরিবেশ সংস্কার কমিশন গঠন করা, বায়ুদূষণকারী মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ করে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি। এছাড়াও রয়েছে, বায়ু দূষণকারী পোড়ানো ইটের বিকল্প ব্লক ইট উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া ও বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা। সংগঠন দুটির দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, যানবাহন, শিল্প কারখানা, গৃহস্থালি কাজসহ সবস্তরে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে।

তারা আরও দাবি করেন, আইইপিএমপিসহ বিদ্যমান জ্বালানি নীতিগুলোতে সংশোধন আনা এবং নির্মল বায়ু আইন প্রণয়ন করতে হবে; বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কারখানায় বিশ্বমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিঃসরণ মান নির্ধারণ এবং এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

৯ দফা সুপারিশে তাদের আরও দাবি হচ্ছে, সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুৎ এবং বায়োগ্যাস প্রকল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গবেষণা ও উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে। গৃহঅভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণ কমাতে গ্রামীণ পর্যায়ে জীবাশ্ম জ্বলানির পরিবর্তে সবুজ জ্বালানি নিশ্চিত করতে হবে।

সারাবাংলা/এফএন/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো