ঘটনাটি ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানের। যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতায় নড়াইলের এক স্কুল ছাত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিকী সাজ নেওয়ায় তার পরিবারকে চরম নাজেহাল করা হয়েছিল। এমনকি তার বাবা চাকরিচ্যুত হন এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়। কারণ সে সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা সরকার জিয়া পরিবারকে সহ্য করতে পারতেন না। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে মানুষ এসব কিছু জেনেও কেনো খালেদা জিয়াকে অনুকরণ করেন?
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ভোটের হাওয়া বয়ছে। প্রতিদিন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাবেশ, গণসংযোগ ও পথসভা করছেন। তবে বিএনপির সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়াকে অনুকরণ করে সাজ ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। বলা যায়, দেশের মানুষ দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে বেগম খালেদা জিয়াকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে তাকে ভীষণভাবে অনুসরণ করছেন। বিশেষ করে ৫ আগষ্টের পর থেকে বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপি নেত্রী ছিলেন না, বরং সারা দেশের মানুষের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন।
বেগম খালেদা জিয়া ৪০ বছরেরও বেশি রাজনৈতিক জীবনে কোনো দেশি বিদেশি শক্তি বা চাপের কাছে নীতি বদল করেননি। তার মধ্যে এই দৃঢ়তা ও আপসহীন মনোভাব অন্য রাজনৈতিক নেতাদের থেকে আলাদা করেছে। রাজনৈতিক জীবনের প্রথম থেকেই খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব নারীদের কাছে সবসময় আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথম বার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পরে নারী শিক্ষার বিস্তার ও ক্ষমতায়নের ফলে সমাজে নারীর আমূল-পরিবর্তন এসেছে। গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে ১৯৯১ সালে তৎকালীন রক্ষণশীল সামাজিক বাস্তবতায় প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়া ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। খালেদা জিয়া রাজনীতিতে এসে নেতৃত্বের সাহস, আত্মমর্যাদা, ভদ্রতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতার পরিচয় দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করতে পেরেছিলেন। একজন নারী হিসেবে তার এই সাফল্য মেয়েদের কাছে এখনো সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
রাজনৈতিক দৃঢ়তা, দেশপ্রেম, সংযত আচরণ, বিরোধী মতকে গ্রহণ করা, আক্রমোনাত্মক ভাষা এড়িয়ে অন্যকে সম্মান করার পাশাপাশি তার সাজ-সৌন্দর্য, রুচিশীল পোশাক ও আভিজাত্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব নারীদের আকর্ষণ করেছে। তিনি এই বার্তা সবার নিকট পৌঁছে দিতে পেরেছেন যে, ক্ষমতা মানেই কঠোরতা বা আত্ম-অহংকার নয়, বরং শালীনতা, মার্জিত পোশাক, সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে নেতৃত্বও সহাবস্থান করতে পারে।
নারী শিক্ষায় যুগান্তকারী ভূমিকা, দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়নে অবদান, রাজনৈতিক আপসহীন সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও আভিজাত্যের এই সমন্বয়ই খালেদা জিয়াকে বহু নারীর কাছে অনুকরণীয় করে তুলেছে। ফলে অনেকে খালেদা জিয়ার মতো হতে চাই। তার চারিত্রিক গুণাবলি, কথা বলার স্টাইল ও ফ্যাশান ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে নারীদের মনোজগতে। ফলে এই প্রভাব নারীদের এগিয়ে রাখবে দেশ গঠন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে। নারীরা তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বেগম খালেদা জিয়ার গুণগুলো নিজেদের মধ্যে রপ্ত করে এগিয়ে যেতে চাই বহুদূর।
লেখক: অফিসার, ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ, নারায়ণগঞ্জ