Monday 30 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিসের সময় কমানো জরুরি

উজ্জল জিসান স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩০ মার্চ ২০২৬ ২২:৪২

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারনে সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রনালী দিয়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে ইরানের কঠোর ভুমিকার কারনে দেশে দেশে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধি করেছে। কোনো দেশ হোম অফিস জারি করেছে। কোনো দেশে কর্মঘণ্টা কমিয়ে এনেছে। সবকিছুই করা হয়েছে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য।

কিন্তু বাংলাদেশেই একমাত্র কর্মঘণ্টা তো কমেইনি বরং আরও কঠোর করা হয়েছে। আবার সরকারি ছুটি শনিবার কমিয়ে কর্মদিবস করার জন্য আলোচনা করা হচ্ছে। এতে জ্বালানি সাশ্রয় তো দুরের কথা বরং উল্টো আরও বেশি জ্বালানি খরচ হওয়ার আশঙ্কা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা এখন সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ছে। ফলে একদিকে বাসায় বিদ্যুৎ খরচ বাড়ছে। জ্বালানি তেল ব্যবহার হচ্ছে বেশি। একইসাথে অফিসে গিয়েই ফ্যান লাইট চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস বাধ্যতামুলক করার কারনে দীর্ঘ সময় ধরে লাইট জ্বলছে, ফ্যানও চলছে। যে কারনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি বেশি লাগছে যা এই সংকটময় মুহুর্তে দেশে বড় ধরণের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাজেই এই মুহুর্তে নানান দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোতে কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা জরুরী হয়ে পড়েছে। একইভাবে সংকটকালীন সময়ের জন্য সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি ‍দুদিনের পরিবর্তে আরও একদিন বাড়ানো যায় কিনা তাও সরকারকে চিন্তা করা উচিত। এছাড়া বিকল্প হিসেবে হোম অফিস চালু করা এবং কর্মকর্তাদের দুদিন বাড়িতে বসে কাজ করার বিধানও রাখা যেতে পারে।

মনে রাখতে হবে মধ্যপ্রাচ্য সংকট যদি দীর্ঘদিনে রূপ নেয় তাহলে আমাদেরও দীর্ঘ মেয়াদী জ্বালানি সংকটে ভূগতে হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের এখনি সচেতন হতে হবে। সরকারকে তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারন জ্বালানি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে। জ্বালানি না থাকলে অর্থনীতির চাকা মুখ থুবরে পড়বে। ফলে দেশে বড় ধরণের সংকট দেখা দিতে পারে।

জ্বালানি পাচার ও কালোবাজারিদের মজুদ রোধে সরকারের বর্তমান উদ্যোগ প্রশংসনীয় ভুমিকায় রয়েছে। তবে আগামী দিনের সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। যাতে অদুর ভবিষ্যতে আমাদের বড় ধরণের সংকটে পড়তে না হয়। এরইমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াসহ বেশ কিছু দেশ এরইমধ্যে নানা ধরণের সংকটে পড়েছে। এর থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এখনি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

লেখক: স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সারাবাংলা ডটনেট

বিজ্ঞাপন

আরো

উজ্জল জিসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর