বিজ্ঞাপন

বর্ষার সহজ চাষাবাদ- কচু, পুঁই, পুদিনা, থানকুনি…

July 1, 2018 | 3:48 pm

আষাঢ় শ্রাবণ এই দুইমাস মিলে বর্ষাকাল। এসময়ে গাছের কলম করা, চারা বানানো এবং ফলনবতী গাছ ছাড়াও যে কোন গাছের চারা রোপন করবার শ্রেষ্ঠ সময়। বর্ষাকালে কিছু সহজ চাষাবাদ আছে। সময় কম লাগে এবং কষ্ট কম হয় সেসব চাষাবাদে। ছাদবাগানে বর্ষাকালে চাষাবাদের জন্য সহজ কিছু শাকসবজির কথা বলবো আজ।

বিজ্ঞাপন

ঠিক আষাঢ় আসবার আগে দিয়ে, জৈষ্ঠ্য মাসের শেষের দিকে দুই তিনটা প্লাস্টিকের গামলার তলায় তিন চারটা ফুঁটো করে মাটি আর জৈবসার মিশিয়ে ঝরঝরে করে দুই চারদিন রেখে দেই।  বাজার থেকে এক কেজি পরিমাণের কচুর গাঁটি বা কচুর মুখী কিনে এনে বারান্দায়  কমপক্ষে দুইদিন কাগজ বিছিয়ে শুকিয়ে নেই। এরপর সেগুলো সেই গামলাগুলোতে আট দশটা করে কচুর গাঁটি মাটিতে হালকা করে বুনে ফেলি । বৃষ্টি শুরু না হলে প্রতিদিন জল একবার দেয়া লাগবে।

বিজ্ঞাপন

এর মাঝে আষাঢ় আসবে, বৃষ্টি শুরু হয় প্রচুর। মাটি ভেজাই থাকে তাই। গামলাগুলোতে বাড়তি জল জমলে শুধু কষ্ট করে সরিয়ে দিলে ভালো হয়। সপ্তাখানেক অপেক্ষা করলেই সেগুলো থেকে সবুজ পাতা বের হওয়া শুরু করে। তিন সপ্তা, মানে আষাঢ়ের শেষের দিকে ঘরে কচু শাক আনতে পারবেন আপনি। কচু শাক মাটি থেকে গোঁড়ায় এক ইঞ্চি লম্বা রেখে কেঁচি দিয়ে কাটলে সেসব গোড়া থেকে আবারও সপ্তা তিনেক পর শাক পাওয়া যায়। খুব কম কষ্টে একদম তরতাজা নিজের হাতে চাষ করা, সবুজ আর নরম কচু শাক খাওয়ার জন্য এরচেয়ে আর সহজ উপায় আমি খুঁজে পাইনি।

 

আষাঢ়ের আগ দিয়েই বাজারে পুঁইশাক উঠতে থাকে। আমি সেসময় শেকড়সহ ছোট ছোট পুঁইশাক কিনে আনি। শেকড়ের থেকে তিন চার ইঞ্চি ডাঁটা রেখে বাকীটা রান্না করে ফেলি। পুঁইশাকের এই গোড়াগুলো একদিন ঘরেই শুকিয়ে নেই। মাঝারী মাটির চাড়ি বা টবে সেই গোড়াগুলো ছোট ছোট গর্ত করে বুনে দেই। আষাঢ়ের বৃষ্টিতে ভেজা মাটিতে পাঁচ ছয়দিনের মাঝেই তারা নতুন পাতা ছাড়তে থাকে। এর মাঝে আমি তাদের জন্য বাসস্থান তৈরি করা শুরু করি। এবার বড় তিনটা মাটির টব আর একটা প্লাস্টিকের গামলা খালি ছিল। সেগুলোর পুরানো মাটিতে নতুন করে কিছু জৈবসার মিশিয়ে চারাগুলো একটু বড় হবার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনচার ইঞ্চি লম্বা হতেই তাদের আলাদা করে নিয়ে একটা করে টবে আর গামলায় বসিয়ে দিয়েছিলাম।

পুঁই গাছ বাইতে পছন্দ করে তাই কাঁধ খুজে ফিরে। আমার বাড়তি দুটো তৈরি করা বাঁশের কঞ্চির মাচাঙ ছিল। তাদের একসাথে করে পুঁইশাকের জন্য কাঁধ বানিয়ে দিয়েছিলাম। পাতলা সুতায় বেঁধে দিয়েছিলাম কাঁধে উঠবার জন্য। বাকিটুকু তারা নিজেরাই গুছিয়ে নিয়েছে। পুঁইশাক তুলতে হলে নীচ থেকে পাতা কেঁচি দিয়ে কেটে নিতে হয়। অনেক লম্বা লতা হয়ে গেলে আগা কেটে নিলে আরো ভালো। সেখান থেকে আবার নতুন লতা বের হয়। মাচাঙ পুঁইশাক মাটি থেকে উপরে থাকে বলে পোকার আক্রমণ হয় না। আমার মতন চার পাঁচটা পুঁই ডাঁটা এই পদ্ধতিতে চাষ করলে আগামী দুই তিনমাস যে কোন ছোট পরিবারে সপ্তায় দুই বেলা খাবার টেবুলে শাকের জন্য বাজার যেতে হবে না। বর্ষাকালে পুঁইশাক আরেকটি সহজ চাষাবাদের সবজির নাম।

বর্ষাকালে ছাদবাগানে পুদিনাপাতা আর থানকুনীপাতা আরো দুটি সহজ চাষাবাদের নাম। পুদিনাপাতা বা থানকুনীপাতা ঔষধী লতা হলেও খাবার হিসেবে স্বাদে অতুলনীয়া। এই দুটি লতা ছাদে চাষের জন্য আমি কাঁচাবাজার থেকে এক মুঠি ধরে কিনে আনি। কেঁচি দিয়ে যতটুকু রাখবার রেখে বাকি শক্ত ডাঁটিগুলো যে কোন বড় গাছের গোড়ায় বুনে দেই। সপ্তা পার হতেই তারা তাদের মতন করে পাতা ছাড়তে থাকে। আপনি যদি এদের বেশি বেশি পাতা পেতে চান, তাহলে আলাদা গামলায় ঝরঝরা মাটিতে শক্ত ডাঁটিগুলো বুনে দিতে পারেন। পুদিনা বা থানকুনী তুলতে হলে সবসময় কেঁচি ব্যবহার করবেন। এরা অত্যন্ত নরম আর হালকা লতা। মাটির উপরের দিকে শেকড় ছড়ায়, গভীরে যায় না। তাই হাতের টানে গোড়া থেকে উপড়ে চলে আসতে পারে পুরো লতা। পুদিনাপাতা বা থানকুনীপাতা যত বেশী তুলবেন, তত বেশি ছড়াবে।

 

জৈষ্ঠ্যমাসের শেষে আমের মতন বড় গাছগুলোর মাটি ঝরঝরা করে ডাঁটার বীজ ছড়িয়ে দিতে পারেন। আষাঢ়ের বৃষ্টি আসবার আগেই তিনচার পাতা নিয়ে মাথা তুলে ফেলে তারা। বৃষ্টি শুরু হলেও সমস্যা হয় না তাই। বরং ভেজা মাটিতে তড়তড়িয়ে লম্বা হয়ে হয়ে ওঠে ডাঁটা শাক। আমি এ সময়ের ডাঁটা শাকগুলোকে বেশি বড় হতে দেই না। সাত আট ইঞ্চি হলেই হালকা করে দেই। নরম শাক পাওয়া যায় তখন। শুধু ডাঁটা খেতে চাইলে পাঁচ সাতটা রেখে বাদবাকিগুলো তুলে ফেলতে হয়। শ্রাবণ আসতেই তারা ডাঁটা খাওয়ার মতন লম্বা আর মোটা হয়ে ওঠে। বর্ষাকালে আমি মাঝে মাঝে লালশাকের বীজ ছড়িয়ে দেখেছি। বৃষ্টির কারণে তাদের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে না। তারপরও যতটুকু হয়, ছোট অবস্থায় তুলে ফেলা ভালো। নাহলে তিতকুঁটে স্বাদের হয়ে যায় তারা।

আর অপেক্ষা নয়, চলুন বর্ষার সহজ চাষাবাদ শুরু করে দেই। আষাঢ় গেলো বলে। ঝুম বৃষ্টিতে নিজ হাতে চাষ করা বেসনে পুঁইপাতা ভাঁজা আর পুদিনাপাতার চাটনী খেতে খেতে আনন্দে বলে উঠি আরেকবার। চাষী পরিবার, সুখী পরিবার।

 

সারাবাংলা/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন