শুক্রবার ২৪ মে, ২০১৯ ইং , ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

চৌহালিতে নদী ভাঙনের কবলে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি

জুলাই ১২, ২০১৮ | ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ

।। ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট।।

সিরাজগঞ্জ: চৌহালিতে যমুনার দু’পাড়েই পাল্লা দিয়ে চলছে নদী ভাঙন। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র নদী ভাঙনে গত এক মাসে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখনই ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বহু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হবার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে যমুনার পশ্চিম তীরে অবস্থিত মেকিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় চলছে ভয়াবহ নদী ভাঙন।

স্থানীয়রা জানায়, নদীর পানি অব্যাহত থাকায় চৌহালি উপজেলার খাসপুকুরিয়া থেকে পাথরাইল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন চলছে। প্রতিনিয়তই নদীর পেটে চলে যাচ্ছে বসত বাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা।  গত দুই দিনে খাসপুকুরিয়া ও চরসলিমাবদ এলাকায় অনেক বসতবাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থরা তাদের শেষ সম্বল টিনের চালা ও অন্যান্য আসবাব সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নিরাপদ স্থানে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে দক্ষিণ খাসপুকুরিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের, শুকুর মোল্লা, বাদশা মিয়া, হাবিবুর রহমান ও সকিনা খাতুনের বাড়িসহ, মসজিদ ও দু’টি মুদিখানা দোকান নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া গতবারের নদী ভাঙনে খাসদেলদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বীরবায়ুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাসপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে চলে যায়।

অন্যদিকে যমুনার পশ্চিম তীরের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাপাতাল ও বিশ্ববিদ্যায়ের সাড়ে ৫কিলোমিটার এলাকা জুড়েও চলছে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন। এ কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ কাপড়ের হাট, চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আবু দাউদ সরকার জানান, যমুনার রাক্ষুসী থাবার কাছে হার মেনে অসহায় মানুষগুলো নিজ বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন ওয়াবদা বাঁধে। এ  পরিস্থিতিতে কান্নার রোলে যমুনা পাড়ের আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙনরোধে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

খাসপুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার বলেন, যমুনা নদীর এতো ভয়ংকর গর্জন বিগত দিনে দেখা যায়নি, এ বছর নদীতে পানি বাড়ার পর থেকে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে চৌহালি উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব:) আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। এখনই ভাঙন ঠেকানো না গেলে চৌহালির বাকি অংশ মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে থাকবে না।

উপজেলা ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমান জানান, ভাঙন কবিলত এলাকা পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে। আর টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, চরসলিমাবদ এলাকায় ভাঙনরোধে ডাম্পিং কাজ চলমান রয়েছে। নদী ভাঙন থেকে বসতভিটা রক্ষায় পাউবো কর্মকর্তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

সারাবাংলা/এএস

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন