শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

৩০ লাখ বিদেশি ছিল রাশিয়া বিশ্বকাপে

জুলাই ১৬, ২০১৮ | ৭:৪১ অপরাহ্ণ

।। স্পোর্টস ডেস্ক ।।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ জ্বরে কেঁপেছে গোটা রাশিয়া, পুরো বিশ্ব। স্টেডিয়াম অপ্রস্তুত, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর জঙ্গী সংগঠনগুলোর একের পর এক হুমকিতে রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে বেশ শঙ্কা ছিল। তবে, সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছে ২১তম বিশ্বকাপ আসর। ৩২ দেশের মহারণ দেখতে গিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ জানিয়েছেন, প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি এই মহাযজ্ঞে সামিল হয়েছিলেন। তাতে রাশিয়ার ৩ হাজার ৩২৫ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের কথা রয়েছে।

এ যেন রাশিয়ান ফুটবলের নবজাগরণ। দেশটির ১১ শহরের ১২টি ভেন্যু ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বরে কেঁপেছে রাশিয়া। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ রাশিয়ার আনাচে-কানাচে ছিল বিদেশি ফুটবল ভক্তদের আনাগোনা। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই দেশটি সফল আয়োজনের পর যারপরনাই খুশি। মরুর বুকে আচমকা মরুদ্যানের সন্ধ্যান পেলে বুঝি এমনই হয়।

রাশিয়ান প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ জানান, আমরা সফল এই আয়োজনে খুশি। আমাদের খুশির বার্তা দিতে সাহায্য করেছে বিদেশি পর্যটকরা। তাদের জন্যই এই আয়োজন। শীতকালীন অলিম্পিকের চেয়েও বিশ্বকাপের আসরে আমরা বেশি বিদেশি দর্শক পেয়েছি। বিদেশিদের নির্বিঘ্নে চলাচল করতে আর ম্যাচ উপভোগ করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করেছি। ৩০ লাখ বিদেশি আমাদের উঠোনে নিরাপদে চলতে পেরেছে, এটা আমাদের জন্য বড় একটি পাওনা।

বিজ্ঞাপন

গত ব্রাজিল বিশ্বকাপে মাঠে বসে খেলা দেখা দর্শক ছিল ৩৪ লাখ ২৯ হাজার ৮৭৩ জন। ম্যাচ প্রতি গড় ছিল ৫৩ হাজার ৫৯২ জন। স্বাগতিক এবং বিদেশি ফুটবলপ্রেমী মিলে এবার রাশিয়ায় মাঠে বসে খেলা দেখেছন ৩০ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৮ জন। রাশিয়ায় ম্যাচ প্রতি দর্শক ছিল ৪৭ হাজার ৩৭১ জন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে এর আগে রাশিয়ার সাফল্য ছিল খুবই ক্ষীণ। আজ থেকে দশ বছর আগে ২০০৮ সালে সর্বপ্রথম ও সবশেষ ইউরো কাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল কোচ গাস হিডিঙ্কের রাশিয়া। এরপর দীর্ঘকালের সাফল্য খরা। ফুটবলের মানচিত্রে আবারো রাশিয়ার নাম জপেছে বিশ্ব ফুটবল। আর এতদিন পর এসে চোখ ধাঁধানো সফল আয়োজনে রাশিয়ার সরকারের উদ্বেলিত হওয়াই বোধহয় স্বাভাবিক।

এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া জাজারোভা জানিয়েছেন, বিশ্ব আসরের সফল আয়োজন শেষে আমরা প্রায় ২১০ বিলিয়ন রুবেল (প্রায় ৩ হাজার ৩২৫ মিলিয়ন ডলার) রাজস্ব আয় করতে পারবো। প্রায় ১২০টি দেশ থেকে মানুষ এসেছিল রাশিয়ায় বিশ্বকাপ দেখতে। তাদের মধ্যে ছিল ১৭ হাজার সেচ্ছাসেবক, যাদের বয়স ছিল ২৪ থেকে ৮০ বছর। বিদেশিদের নিরাপত্তা দিতে আমরা ৩২ দেশের ১৫০ জন পুলিশ অফিসারকে ডেকে এনেছিলাম। বিদেশিদের চলাচলের জন্য ৫ হাজার ৭০০ বাস, ট্রলি বাস, ট্রামস, কারস নামানো হয়েছিল। ১ হাজার ৪৫৩টি হোটেলের ২ লাখ ১ হাজার ৫০০ রুম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। রুস্তভের ম্যাচ দেখতে আসা বিদেশিদের জন্য ১২টি এয়ার টার্মিনালসহ একটি নতুন বিমানবন্দর তৈরি করা হয়েছিল। বিমানবন্দরের আশেপাশে ২৭টি নতুন হোটেলও তৈরি করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে বাজির ঘোড়া হতে পারত তারাই। কিন্তু খোদ নিজেদের দেশেই রাশিয়ার পক্ষে বাজি ধরার লোক ছিল কম। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৬৬ নম্বর দেশটি এবার খেলেছে দুর্দান্ত, মিশন শেষ করেছে কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে। বিশ্বকাপের দলগুলোর মধ্যে তাদের চেয়ে র‌্যাংকিংয়ে নিচের দিকে ছিল হাতেগোণা কয়েকটি দল। ২০১৬ ইউরোর পর রাশিয়া ১৯টি প্রীতি ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র ছয়টিতে (সেই জয়গুলো এসেছে ঘানা, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও ক্লাব দল ডায়নামো মস্কোর বিপক্ষে)। ২০১৭ অক্টোবরের পর থেকে কোনো জয় ছিল না। অথচ, বিশ্বকাপের আসরে স্বাগতিক হিসেবে নেমে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে বিশ্বকাপে ১০বার অংশ নেওয়া দেশটি। রাশিয়া বিশ্বমঞ্চে প্রথম অংশগ্রহণ করে ১৯৫৮ সালে, দেশটির সেরা অর্জন চতুর্থ স্থান (১৯৬৬)।

সারাবাংলা/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন